এআই নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক তদারকি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব ২০ দেশের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেন মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে ২০টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এআইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণ ও তা কার্যকর করতে একটি বৈশ্বিক তদারকি সংস্থা গঠনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বনেতাদের আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যে সোমবার যৌথ বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের কার্যালয় থেকে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এআই আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করতে হবে এবং এর ওপর মানুষের নির্দেশনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে দেশগুলোকে অভিন্ন মানদণ্ড তৈরি ও সমন্বয়, বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘটনার তথ্য বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি এআইয়ের সক্ষমতার নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে মানদণ্ড নির্ধারণ, তা যাচাই এবং দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করতে পারে। বিবৃতিতে জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সই করেছে।

তবে বিশ্বের দুই প্রধান এআই শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই বিবৃতিতে সই করেনি। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সও স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে নেই। বিবৃতিটি অন্য দেশগুলোর জন্য এখনও স্বাক্ষরের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এদিকে এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতেও বিতর্ক চলছে। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক।

সোমবার ওপেনএআইও উন্নত এআইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত মানদণ্ড তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক কাঠামো নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

এদিন জাতিসংঘ-সমর্থিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক এআই বৈজ্ঞানিক প্যানেলও নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, ওপেনএআইয়ের পরীক্ষাধীন এআই এজেন্টদের মাধ্যমে জুলাইয়ে এআই স্টার্টআপ হাগিং ফেসে সাইবার হামলার ঘটনা বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।