বছরে দেশের ৫৯ শতাংশ মানুষ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে মারা যায় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ বিভাগের পরিচালক ডা. ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া। মঙ্গলবার ‘এসডিজি অর্জন: প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি একথা বলেন। যৌথভাবে দৈনিক ভোরের কাগজ ও বেসরকারি সংস্থা ডিজ্যাবলড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন (ডিআরআরএ) এ গোলটেবিলের আয়োজন করে।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকারকে পাশ কাটিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। আর এজন্য দেশের হাসপাতালসহ সব ধরণের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে তাদের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়টি মাথায় রেখে বাজেট ও পরিকল্পনা প্রণয়নকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’
ডিআরআরএ’র নির্বাহী পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে এবং ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় আলোচনায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রক রোগ বিভাগের লাইন ডিরেক্টর ডা. ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজরানা ইয়াসমিন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জিল্লুর রহমান খানসহ অন্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও গবেষক রাশেদ আলী।
সাংবাদিক রাশেদ আলী তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজিএস অর্জনের জন্য সরকার যে পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বা তারও বেশি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা নেই। প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযুক্ত হাসপাতাল পরিবেশ, চিকিৎসা পদ্ধতি, মেডিক্যাল পরীক্ষা, সেবা ও ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এটা তার সাংবিধানিক অধিকার। অথচ বাস্তবে সরকারি-বেসরকারি সমস্ত স্থাপনায় প্রতিবন্ধীদের সহজ যাতায়াত সুবিধা তো দূরের কথা, হাসপাতালগুলোতেও প্রতিবন্ধীদের প্রবেশগম্যতা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। প্রতিবন্ধীদের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে স্বাস্থ্যখাতে ব্যায় বাড়ানোর কোনও বিকল্প নেই।’
/জেএ/এমও/