সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে সেই জাহিদ

 

 

অপারেশনের পর সুস্থ জাহিদস্বাভাবিক আকারের চেয়ে বড় জিহবা নিয়ে জন্ম নেওয়া জাহিদ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বাবা-মার সঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে সে বাড়ি ফিরে যায। ঢামেকের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আব্দুল হানিফ টাবলু বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড় জিহ্বার কারণে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল জাহিদের পরিবার। গত ৩০ জুলাই জাহিদের অপারেশন হয়। অপারেশনের দশদিন পর আজ সে বাড়ি ফিরে গেছে। জাহিদকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে তার বাবা-মায়ের মুখে যেমন হাসি ফুটেছে, তেমনি হাসি ফুটেছে চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকের মুখেও।   

ঢামেকের চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে জাহিদের ভর্তি হওয়াটা সম্ভব হয়েছে ফেসবুকের কল্যাণে। সিরাজগঞ্জের মামুন বিশ্বাস প্রথম জাহিদকে নিয়ে পোস্ট দেন। ফেসবুকে দেওয়া মামুন বিশ্বাসের পোস্ট চোখে পড়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের। তিনি নিজের ফেসবুকে জাহিদকে নিয়ে পোস্ট দেন। এরপরই ঢামেকের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক কাজল তাকে জানান, শিশু জাহিদের অপারেশন তারা করতে আগ্রহী। তখন স্বাস্থ্য সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম উদ্যোগী হয়ে জাহিদকে নিয়ে আসেন ঢামেক হাসপাতালে। তিনি চিকিৎসাধীন জাহিদকে দেখেও যান। জাহিদে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হয় শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক কাজলের তত্ত্বাবধানে।অপারেশনের আগে জাহিদ

তবে শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি থাকলেও গত ৩০ জুলাই জাহিদের অপারেশনে শিশু সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন ঢামেক হাসপাতালের নাক-কান ও গলা বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. ইউসুফ ফকির।  ওই দিন সকাল আটটা থেকে সকাল ১১ টা ১৫ পর্যন্ত এই জটিল অপারেশনে শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক কাজল ও অধ্যাপক ডা. ইউসুফ ফকিরের নেতৃত্বে অন্যান্য চিকিৎসকরাও অপারেশনে অংশ নেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আব্দুল হানিফ টাবলু। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাহিদের অবস্থা ভালো। তার জিহবা ও গালে টিউমার ছিল। জিহ্বার টিউমারের কারণে মুখের ভেতরে জিহ্বা না থাকতে পারায় সবসময় তাকে হা করে থাকতে হতো, খাবার খেতে কষ্ট হতো, কথা বলতে অসুবিধা হতো। সে টিউমার আমার অপারেশন করে জিহ্বার সাইজ ছোট করে দেওয়া হয়েছে। গালের যে টিউমার আছে তার জন্য আপাতত আমরা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা কমবে, তাতে কিছুটা সাইজ কমবে জানিয়ে তিনি বলেন, আবার একমাস পরে জাহিদকে আমরা দেখবো। এভাবে তার পরবর্তী চিকিৎসাও করবো।’  তিনি বলেন, ‘জাহিদকে আজ আমরা রিলিজ করে দিয়েছি, সে বাড়ি গেছে। হাসপাতালের সমাজকল্যাণ তহবিল থেকে জাহিদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদানও দিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. মিজানুর রহমান।’

চিকিৎসকদের সঙ্গে জাহিদ ও তার বাবা

জাহিদের বাবা আলিম উদ্দিন অন্যের কৃষি জমিতে কাজ করেন, মা জাহেদা বেগম গৃহিণী। দুই মেয়ে আর এক ছেলে তাদের। আলিম উদ্দিন জানান, ‘জন্মের পর একমাত্র ছেলের অস্বাভাবিক জিহ্বা দেখে ঢাকার শিশু হাসপাতালেও এনেছিলাম একবার, কিন্তু তখন চিকিৎসা করানোর মতো টাকা না থাকায় সম্ভব হয়নি।’

আলিম উদ্দিন ছেলেকে নিয়ে শোনালেন আরেক কষ্টের কথা। জানালেন নিজের বাড়িতেই কটু কথা শুনতে হয়েছে ছেলেকে নিয়ে। এ কারণে ছেলেকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। জাহিদকে স্কুলে ভর্তি করাতে গেলেও শিক্ষকরা ভর্তি হতে দেননি। তিনি বলেন, ‘টাকার অভাবে এতদিন চিকিৎসা না হলেও আজ ছেলে সুস্থ হয়েছে এই হাসপাতালের ডাক্তারদের কারণে। ছেলে সুস্থ হয়েছে, স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারবে, খেতে পারবে। এর চেয়ে বড় পাওয়া তার আর কিছু নেই।’

জাহিদের সফল অপারশনের জন্য হাসপাতালের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সব  চিকিৎসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্যসচিব সিরাজুল ইসলাম। 

ছবি: ঢামেকের শিশু সার্জারি বিভাগের রেসিডেন্ট ডা. কৌশিক ভৌমিকের সৌজন্যে 

/এমএনএইচ/