মঙ্গলবার সকাল নয়টায় কার্ডিওলজি বিভাগে রাবেয়া ও রোকাইয়াকে এনজিওগ্রাম শুরু হয়। সকাল এগারোটার দিকে তা শেষ হয়। এরপর বার্ন ইউনিটের তৃতীয় তলায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন বলেন, ‘তাদের অপারেশন অত্যন্ত জটিল। তবে, এছাড়া কোনও উপায় নেই। তাদের মা-বাবা এটা চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা এই কাজটা করতে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘তাদের অপারেশনটি নিউরো সার্জারির অংশ। তাদের অজ্ঞান করাটা খুব কঠিন ছিল। আজকে আমরা তাদের এনজিওগ্রাম করার মাধ্যমে প্রথম ধাপটি অতিক্রম করলাম। তাদের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। তাদের মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল আলাদা করতে হবে। না হলে কোনোদিনই তাদের দু’জনকে আলাদা করা যাবে না। তাদের চিকিৎসা করতে বছরখানেক সময় লাগবে।’
নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে এই ধরনের শিশুদের চিকিৎসার জন্য সার্জারি করা হতো। যেখানে ৮০ ভাগ ফেইলিউর ছিল। তাদের ব্রেইনটা এক হয়ে আছে। হাড় রক্তনালী এক হয়ে আছে। আমরা তাদের ধ্মনীগুলো কেমন, তা দেখেছি। শিরাটাকে মূল টার্গেট করে আমরা শিরা বরাবর ব্রেইনটাকে আলাদা করবো। একটু একটু করে শিরা বন্ধ করে দেখবো, শিশু দু’টি কমর্ফোটেবল কিনা। এজন্য আমরা সময় নেবো।’
বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বলেন, ‘তাদের কোনও না কোনও সময় সেপারেশনে যেতেই হবে। তাদের মা-বাবা এটা চাইছে। আমরা সবাইকে জানিয়েই তাদের ব্যাপারে এগুচ্ছি। এখন সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’
রোকেয়া রোকাইয়া এর আগে ঢামেক এ ভর্তি হলেও আবার বাড়ি ফিরে যায়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি তাদের আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশু দু’টির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।