রওশন আরার ডান কিডনিটি অস্ত্রোপচারের সময় কেটে ফেলা হয়েছে কিনা তা তদন্তে গঠিত কমিটিতে সাত জন সদস্য রয়েছেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হারুন অর রশিদকে। এছাড়াও কমিটিতে আছেন– বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম খুরশিদুল আলম, নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক অসীম কায়েস, রেডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, সার্জারি বিভাগের ডিন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বিএসএমএমইউ’র অ্যাডিশনাল রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আসাদুল ইসলাম।
এদিকে, রওশান আরার চিকিৎসায় গঠিত ছয় সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডে আছেন– বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম সেলিম। সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌহিদুল আলম, কার্ডিয়োলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিফুল হক, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক জলিল চৌধুরী এবং ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।
বিএসএমএমইউ এর চিকিৎসা ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, ‘এই রোগীর বাম দিকের কিডনির সমস্যা অনেক দিনের। ২০১৬ সালে তিনি বাম দিকের কিডনির অস্ত্রোপচার করেন। আমি তখন বিএসএমএমইউ এর প্রক্টর। তখন আমার ইউনিটে এসে তিনি ভর্তি ছিলেন। তিনি যখন পোস্ট অপারেটিভে ছিলেন তখন চিকিৎসকরা আমাকে জানান, স্যার রোগী ভালো আছেন। তবে পরে চিকিৎসকরা বলেন, স্যার রোগীর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তখন আমি বললাম, আইসিইউতে নাও। কিন্তু পরে শুনলাম রোগীকে ইনসাফে নেওয়া হয়েছে।’
কিডনি রোগে আক্রান্ত রওশন আরা চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রফিক শিকদারের অভিযোগ– ‘তার মায়ের বাম কিডনিটি অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর সিটি স্ক্যান করে দেখা যায়, মায়ের শরীরে ডানের কিডনিটিও নেই। এখন একদিন পর পর মায়ের ডায়ালায়সিস করতে হচ্ছে। অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে।’ মায়ের এমন পরিণতির জন্য যারা দায়ী তাদের শাস্তি দাবি করেন রফিক শিকদার। তবে বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বলছেন, কিডনি কোনও কারণে নন-ফাংশনাল হলে সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ে না।
আরও খবর: বাম কিডনি ফেলা হলো, ডানেরটা কোথায়!