গড়ে প্রতিদিন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ৩০টি অভিযোগ পায় এমআইএস

 

01দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। এই অভিযোগগুলো সরাসরি পেতে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)। প্রায় সাত বছর আগে অর্থাৎ ২০১২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে এখন পড়ে প্রতিদিন ৩০টির মতো অভিযোগ আসছে।

অভিযোগগুলোয় দেখা যায়, ‌'একজন অভিযোগকারী জানিয়েছেন, আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য এক ঘণ্টা আগে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন বলছে লিমিট শেষ। আজ আর হবে না।’
অন্য একজন লিখেছেন, 'হাসপাতালে জেনারেটর মেশিন নেই।'

কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নড়াইল থেকে একজন লিখেছেন, 'নার্সদের আচরণ খুব খারাপ। ঠিকমতো সেবা দেয় না।'

আবার অন্য একজন লিখেছেন তিনি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট চাইতে গেলে তার কাছে চিকিৎসক ৩ হাজার এবং তার সহকারী এক হাজার টাকা চেয়েছে।

দেশের কোনও সরকারি হাসপাতালে গিয়ে হয়রানির শিকার হলে বা চিকিৎসা সহায়তা ঠিকমতো না পেলে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে একেবারে গ্রামে অবস্থিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা।

সূত্র জানায়, দেশের কোনও সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নোটিশ বোর্ডে এই একটি নির্ধারিত নম্বর বোর্ডে টাঙানো থাকে। এই নম্বরের প্রথমে cmp এরপর হাসপাতালের কোড নম্বর লিখে, এরপর অভিযোগগুলো লিখতে হয়। (যেমন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলজের কোড হবে - shss এর অভিযোগ বা সুপারিশ লিখে পাঠাতে হবে ০১৭৩৩০৭৭৭৭৪ এই নম্বরে - (cmp-shss-complain-send ০১৭৩৩০৭৭৭৭৪)।
এরপর যিনি অভিযোগটি লিখছেন তার নিজের নাম এবং মোবাইল নম্বর দিতে হবে (যদি তিনি তা দিতে চান)। এরপর হাসপাতালের বোর্ডে টাঙানো ০১৭৩৩০৭৭৭৭৪ - নম্বরটিতে পাঠাতে হবে।

সারাদেশের ৮শ’ হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই অভিযোগ নম্বর বোর্ড রয়েছে।
একইসঙ্গে ১৬২৬৩ এই কলসেন্টারে যোগাযোগ করে স্বাস্থ্যসেবা বা কোনও বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা জানানো যাবে। এই নম্বরে ফোন করতে নিজ নিজ অপারেটরের মোবাইল ব্যালেন্স অনুযায়ী কলরেট কাটা হয়।

এই নম্বরে ফোন দেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ পেতে চাইলে শূন্য তে চাপ দিতে হবে। নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল, কিংবা স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্য জানতে এক, অ্যাম্বুলেন্সের তথ্য জানতে ২, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে অভিযোগ বা পরামর্শ জানাতে ৩, কোন দুর্ঘটনার খবর জানাতে ৪ এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জানতে ৫ এ চাপ দিতে হবে।

সূত্র জানায়, দুজন কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার শরীফ এবং মো. বোরহান প্রতিদিন সারাদেশ থেকে আসা অভিযোগগুলো নিয়মিত মনিটর করেন। তারা যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেগুলো একটা মার্কিং করেন। যেগুলো সংশ্লিষ্টদের জানানো দরকার সেগুলো আলাদা মার্কিং করেন। যেগুলো কম গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো আলাদা মার্কিং করেন।

সূত্র আরও জানায়, গত ৩১ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ২৪টি ম্যাসেজ এসেছে। ৩০ জানুয়ারি সারাদিনে এসেছে ৩৮টি ম্যাসেজ। এভাবে সারা সপ্তাহে গড়ে ৭০০-৮০০ ম্যাসেজ আসে।

এমআইএস’র একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোনও অভিযোগ আসলে আমরা প্রথমে অভিযোগকারীর সঙ্গে কথা বলি। বোঝার চেষ্টা করি যে তার অভিযোগ সত্যি কিনা। এরপর অভিযোগকারীর নম্বরটি আমরা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে দেই। সেখানকার পরিচালক অভিযোগকারীকে প্রয়োজনে ডেকে আনেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক ডা. সমীর কান্তি সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে আমরা সেগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে কথা বলি। নার্সদের অভিযোগ সম্পর্কে আমরা সরাসরি হাসপাতাল পরিচালককে জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অভিযোগগুলোকে কয়েকটি পর্বে ভাগ করি। কিছু থাকে, হাসপাতাল সম্পর্কে ভালো কথাগুলো বলে। কিছু মেশিনপত্র কেন নাই তা জানতে চায়। আবার কেউ কেউ চিকিৎসক নাই, মেশিন নাই, বাথরুম নোংরা বা হাসপাতালে ওষুধ মেলে না এই বিষয়গুলো লেখেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সব অভিযোগের সমাধানের চেষ্টা করি। তবে কোনও মেশিন না থাকা বা নষ্ট হওয়া সংক্রান্ত অভিযোগ আসলে তা বাস্তবায়ন করতে একটু সময় লাগে। এটা সবাইকে মেনে নিতে হবে।’

ডা. সমীর কান্তি সরকার বলেন, ‘শুধু দেশের স্বাস্থ্যখাত নয়, সবগুলো খাতে যদি এই সিস্টেম চালু করা যায় তাহলে সেবা নিতে যাওয়া মানুষের হয়রানি অনেক কমে আসবে। কারণ তখন সরকারি চাকরিজীবীরা সবসময় জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে।’