আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্যে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাহিদ মালেক (ফাইল ছবি)

‘নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের মধ্যদিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সুলভে পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার।’

রবিবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা পরীক্ষিৎ চৌধুরীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ও মান বৃদ্ধি করে মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সরকারি হাসপাতালে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। যথাযথ মানের যন্ত্রপাতি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, হাসপাতালের সম্প্রসারণ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের একজন মানুষও যেন মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার আওতার বাইরে না থাকে, সেদিকে দৃষ্টি রেখে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রত্যেক মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের সব পর্যায়ের হাসপাতালে সেবার মান বাড়ানো হবে।’ সরকারি উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে সব স্তরের চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থল থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান মন্ত্রী।

এসময় মন্ত্রী জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে নবরূপে সংস্কার করে পাঁচ হাজার শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর, দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে ১০০ শয্যার ক্যান্সার ও কিডনি হাসপাতাল এবং মা ও শিশু হাসপাতাল স্থাপনসহ জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ’র শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বছরই সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন ১শ’ আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর কাজ সম্পন্ন হবে। শহরের হাসপাতালগুলোতে দরিদ্রদের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিশেষ কর্নার খোলারও চিন্তা করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বড় বড় বিশেষায়িত হাসপাতালে দেশের দরিদ্র মানুষেরা প্রায় বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সংক্রাকম রোগ চিকিৎসায় বাংলাদেশের সাফল্য আজ বিশ্বে প্রশংসিত। কিন্তু ক্যান্সার ও কিডনি রোগসহ কিছু কিছু অসংক্রামক রোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের বড় বড় বেসরকারি হাসপাতাল অথবা বিদেশে যেতে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে অসংক্রামক রোগ মোকাবেলার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তোলা হবে।’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মাঝে বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ২০১৮ সালে দেশের সেরা সেবাদানকারী ২৭টি প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালকে ‘জাতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুরস্কার’ দেওয়া হয়। এবছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাটাগরি থেকে ৫টি, জেলা সদর হাসপাতাল ক্যাটাগরি থেকে ৫টি, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৩টি, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে ২টি, কমিউনিটি ক্লিনিক ক্যাটাগরি থেকে ৫টি, সিভিল সার্জন ক্যাটাগরি থেকে ৫টি, বিভাগীয় পর্যায় থেকে ২টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

আলোচনা সভার শুরুতে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সারা বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের কর্মসূচি  উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।