স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দায় চাপালো অধিদফতরের ওপরে

শনিবার (১৪ আগস্ট) রাতে চীন থেকে কেনা চুক্তির আওতায় ১০ লাখ টিকা দেশে পৌঁছানোর বিষয়ে রবিবার (১৫ আগস্ট) পর্যন্ত  কোনও তথ্যও জানায়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। উপরন্তু, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা দায় চাপাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওপরে।  

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এ সময়ে দেশে কত টিকা আসছে, কোথা থেকে আসছে— এ সম্পর্কিত খবর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এত দিন এ বিষয়ে সব তথ্যই গণমাধ্যমকে দিয়ে এসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ। কিন্তু শনিবার দেশে কত টিকা এসেছে বা আদৌ এসেছে কিনা, সে সম্পর্কে কোনও তথ্য না দেওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সিনিয়র কর্মমকর্তা মাইনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো দায় চাপান স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঘাড়ে।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্ধারিত মুখপাত্রদের দায়িত্ব এ বিষয়ে সব তথ্য জানানো।’

১৪ আগস্ট টিকা এসেছে কিনা প্রশ্নে মন্ত্রণালয়ের মাইদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ দায়িত্ব ওরা (স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র) ভাগ করে নিয়েছে, সবকিছু ওখানে।’

কিন্তু টিকা দেশে পৌঁছেছে কিনা বা কবে আসবে এটা জানানোর দায়িত্ব কার জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিডিসির যে পরিচালক (অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম) রয়েছেন তার।’

দেশে টিকা পৌঁছানো বা এ বিষয়ে কোনও তথ্য কখনোই স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকদের কাছ থেকে দেওয়া হয়নি, বরং স্বাস্থ্য বিটের সাংবাদিকদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের গঠিত ফেসবুক গ্রুপে সবসময়ই মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে মন্তব্যে তিনি বলেন, ‘কিন্তু দায়িত্বতো তারা নিয়েছে, সব দায়িত্ব তাদের।’

মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘ওখানে মিডিয়া সেল রয়েছে, ওখানে জনসংযোগ কর্মকর্তা রয়েছে,সব রয়েছে। কিন্তু তারা যে এই কাজগুলো করবে মিডিয়ার সঙ্গে, সেটা হচ্ছে না।’

তাহলে টিকার বিষয়ে গণমাধ্যমকে তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব কার জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক, দ্বিতীয়ত মুখপাত্র সিডিসির পরিচালক নাজমুল ইসলাম —এরা জানাবে। এর বাইরে অধিদফতরের এমআইএস  (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) জানাবে।’

এর আগে তো আগ এসব তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে প্রশ্নে মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নেই, কিন্তু তারাতো যেহেতু দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাই এ বিষয়গুলো তাদেরই দেখা উচিত।’