৩০০ জনেরও বেশি চিকিৎসক রমজান মাসে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের রক্তের শর্করা পর্যবেক্ষণের রেকর্ড রাখবেন এবং ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।
রবিবার (২ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটি (বিইএস) এবং এর বৈজ্ঞানিক অংশীদার বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সানোফি বাংলাদেশ, ‘রমজানে ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এ তথ্য জানায়।
রমজান মাসে নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর রোজা নিশ্চিত করতে সহায়তা করার জন্য এই বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, রমজান মাসে রোজা রাখতে ইচ্ছুক রোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে ডায়াবেটিস এবং রমজান ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের (ডিএআর) সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) চিকিৎসকদের জন্যে পবিত্র মাসে তাদের রোগীদের ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে রমজানের নির্দেশিকা প্রকাশ করছে।
বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটি (বিইএস) রোজা রাখার সময় ডায়াবেটিস রোগীকে নিরাপদ রাখতে ওষুধের পাশাপাশি দৈনিক রক্তের শর্করা পর্যবেক্ষণের জন্য বই, ডায়েট চার্ট এবং ব্যায়াম চার্টের মতো সহায়ক সব উপকরণ সরবরাহ করবে।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সানোফি বাংলাদেশ এই অভিনব এবং রোগীকেন্দ্রিক উদ্যোগের বৈজ্ঞানিক অংশীদার। রোগীর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি (বিইএস) পরবর্তী সময়ে বিশেষভাবে বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তবসম্মত এবং প্রমাণভিত্তিক নির্দেশিকা প্রণয়ন করবে।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে—রমজানের আগে ডায়াবেটিস রোগীদের ঝুঁকির স্তরবিন্যাস এবং ওষুধের নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সর্বশেষ প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরামর্শ প্রদানে চিকিৎসকদের সমর্থন ও হালনাগাদ করা।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, ডায়াবেটিস হলো চারটি প্রধান অসংক্রামক রোগের একটি, যা বিশ্বব্যাপী অসুস্থতা এবং মৃত্যুর হারে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। রমজান মাসে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের খাদ্য এবং তরল গ্রহণের সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কারণে শারীরিক জটিলতার বিশেষ ঝুঁকি বেড়ে থাকে।
বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম আশরাফুজ্জামান বলেন, “ডায়াবেটিস চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু ওষুধ নেওয়াটাই সবকিছু নয়। ডায়াবেটিস রোগীদের তার দৈনন্দিন জীবনব্যবস্থার সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থার সামঞ্জস্য করতে হয়। তারই ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটি রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের ঝুঁকিমুক্তভাবে রোজা রাখা এবং সঠিক মাত্রায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সর্বাত্মক নির্দেশনা বরাবরই দিয়ে আসছে। এ বছর তা আরও জোরদার হবে।”
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের ডায়াবেটিস ও হরমোন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান বলেন, রমজানে অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগী স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে রোজা রাখেন। চিকিৎসক হিসেবে একজন রোগীর শর্করা সুনিয়ন্ত্রিত রেখে রোজা রাখতে সহায়তা করাই আমাদের লক্ষ্য।
সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডের ইনসুলিন ও ক্রিটিক্যাল কেয়ারের পরিচালক সৈয়দ এ বি তাহমীদ বলেন, রমজানে ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা ২০২২ একটি অভিনব প্রকল্প। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে প্রস্তুতকৃত সর্বশেষ প্রমাণভিত্তিক ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার এই নির্দেশিকা অবশ্যই আমাদের ডায়াবেটিস রোগীদের সঠিক গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিরাপদে রোজা রাখতে সহায়তা করবে।”
গণমাধ্যমের কাছে অনুষ্ঠান থেকে অনুরোধ জানানো হয়, সব ডায়াবেটিক রোগী, যারা রোজা রাখতে চান, অবশ্যই ৩ মাস আগে থেকে প্ল্যান করুন, নিজ নিজ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন, রোজা রাখতে হলে তার করণীয় জেনে নিন।