বাধ্যতামূলক না হলে দেশের বাইরে যেতে করোনা পরীক্ষা না রাখার সুপারিশ

বাংলাদেশ থেকে অন্য কোনও দেশে যেতে সেই দেশে প্রবেশে বাধ্যতামূলক না হলে সব যাত্রীর জন্য করোনার আরটিপিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক না করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের করোনা টিকার সনদ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

গতকাল (১৬ ফেব্রুয়ারি) কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৫৬তম সভায় এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ  (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহির্গামী যাত্রীদের ক্ষেত্রে বর্তমানে পৃথিবীর কোনও কোনও দেশে প্রবেশের জন্য আরটিপিসিআর টেস্ট করা বাধ্যতামূলক নয়। আর এ অবস্থায়, সব বহির্গামী যাত্রীদের জন্য পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক না করে যে দেশে যাবেন অথবা যে এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করবেন, তাদের চাহিদা অনুযায়ী আরটি পিসিআর টেস্টের বিধান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে, যাত্রীর কাছে তার কোভিড-১৯ টিকার সার্টিফিকেট বা টিকা গ্রহণের সনদ থাকা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। আর এ কাজে এয়ারলাইন্সসমূহকে এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

সেইসঙ্গে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃত করোনা টিকা গ্রহণ করার ১৪ দিন পার হয়ে গেলে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের করোনা টেস্ট ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে বলে সভায় মত দেওয়া হয়।

তবে টিকার সম্পূর্ণ ডোজ যারা সম্পন্ন করেননি তাদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ করার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন কমিটির সদস্যরা।

কমিটির সভায় আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস শুরু করার সুপারিশ করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের দুই ডোজ টিকা নেওয়া থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়েও কমিটি গুরুত্ব আরোপ করে।

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে পরিচালনা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির যদি আরও উন্নতি হয় তাহলে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস সশরীরে শুরু করার বিষয় পরে বিবেচনা করা যেতে পারে।

সভায় করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ক্ষেত্রে শতভাগ সঠিকভাবে মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের সুপারিশ করা হয়।