স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, ঢাকাসহ সারাদেশের হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার মনে করেন, ডেঙ্গু রোগীদের নিয়ে সঠিক তথ্য না থাকার কারণে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা ও নিধন করা যাচ্ছে না।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর বিষয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে তাতে শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীর হিসাব করা হয়। যারা বাসায় যারা চিকিৎসা নেন তাদের তথ্য কারও কাছে নেই।
ডা. কবিরুল বলেন, ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বগতি থামাতে না পারার কারণ হচ্ছে আমাদের কাছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সঠিক তথ্য নেই। যদি সঠিক তথ্য থাকতো এবং হটস্পটটা চিহ্নিত করা যেতো তাহলে আমরা একটা ব্যবস্থাপনা করতে পারতাম। হটস্পটগুলোতে যদি আমরা ঠিকমতো লার্ভিসাইড এবং এডাল্ট্রিসাইডিং করতে পারতাম, মানুষকে সচেতন করতে পারতাম রোগীর সংখ্যাটা কমে আসতো। সঠিক তথ্য এডিস মশা নির্মূলে সহায়তা করে।
তিনি মনে করেন, ডেঙ্গু রোগীর বিষয়ে যে তথ্য স্বাস্থ্য অধিদফতর দেয় আক্রান্তের সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে তার চেয়ে দশগুণ বেশি। হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতাল রিপোর্ট করে। এর বাইরে কয়েক হাজার হাসপাতাল ও ক্লিনিক আছে যারা ডেঙ্গু রোগের সেবা দেয়। সেটা ধরেই গবেষকরা নির্ধারণ করেছেন আক্রান্তের সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে দশগুণ বেশি। অনেকে বাসায় চিকিৎসা নেয়। কারণ এখন হাসপাতালে কোন শয্যা খালি পাওয়া যায় না। ডাক্তাররাও বলছেন পরিস্থিতি খারাপ না হলে বাসায় চিকিৎসা নিতে।
ডা. কবিরুল আরও বলেন, করোনা টেস্ট করলে যেমন একটা এসএমএস যায় রোগীর কাছে আরেকটা যায় স্বাস্থ্য অধিদফতরে। এতে জানা যায় কত ভাগ মানুষ কোভিডে আক্রান্ত। ঠিক ডেঙ্গুর ক্ষেত্রেও এরকমটি হওয়া উচিৎ। যেকোনও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাক না কেন যদি রিপোর্ট অটোমেটিক স্বাস্থ্য অধিদফতর ও রোগীর কাছে যেতো তাহলে আমরা রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান পেতাম।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশ থেকে মাত্র ৭৭টি হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগীর তথ্য দেয়। দেশের সব হাসপাতাল ক্লিনিককে ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য সরবরাহ করতে হবে, সেই আইন কিন্তু আছে। এটা কিন্তু নটিফায়েবল ডিজিজ। এটা যখন কারও হবে হাসপাতালগুলো এটা স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানানোর কথা। কিন্তু হাসপাতালগুলো তা করে না। আমার যে ডেঙ্গু রোগীর পরিসংখ্যানটি পাই সেটা আসলে সঠিক নয়।