দেশে মাতৃত্বকালীন অপুষ্টিতে ভোগেন ৫০ শতাংশ

বাংলাদেশে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শতকরা ৫০ জন মা অপুষ্টিতে ভোগেন এবং প্রয়োজনের তুলনায় তাদের ওজনও কম বাড়ে। এতে করে গর্ভের শিশু কম ওজন নিয়ে ভুমিষ্ঠ হওয়ার আশঙ্কা দ্বিগুণ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) রাজধানীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইসিডিডিআর,বি) মাতৃত্বকালীন পুষ্টি নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেন প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী বিজ্ঞানি ডা. এস এম তাফসির হাসান।

২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৩ বছর ধরে কুমিল্লার মতলবে ১৮৮৩ জন অন্তঃসত্ত্বা  নারীর ওপরে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। সেখানকার ৫৬ শতাংশ অন্তঃসত্ত্বার কম ওজন বাড়ে, ২০ শতাংশের অতিরিক্ত ওজন বাড়ে এবং মাত্র ২৪ শতাংশ অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওজন সঠিকভাবে বাড়ে। জরিপের তথ্যমতে, কম ওজন নিয়ে জন্ম নিচ্ছে গর্ভের বয়স অনুযায়ী ৩৯ শতাংশ শিশু, যা মোট শিশুর ১০ জনে ৪ জন।

ডা. এস এম তাফসির হাসান জানান, ওজন কম বাড়া এবং বেশি বাড়া দুটোই ক্ষতিকর। ওজন কম বাড়লে শিশুদের কম ওজন নিয়ে জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। আর এতে শিশু স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় না। এতে সিজারের প্রয়োজন হয়। আবার প্রয়োজনের তুলনায় শিশুর ওজন বৃদ্ধি বা শিশু বড় হলে সেক্ষেত্রেও সিজারের প্রয়োজন পড়ে।

এ সমস্যা থেকে উত্তরণে কী বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবারের প্রয়োজন। পরামর্শ অনুযায়ী শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট-সহ ১০ ধরনের উপাধান প্রয়োজন মতো গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করে একটি ভারসাম্য থাকবে মা ও শিশুর। সাধারণ সময়ের তুলনায় গর্ভাবস্থায় সব ধরনের উপাধানই বেশি বেশি প্রয়োজন হয়। তাই মায়েরা যাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করে।’

অনুষ্ঠানে মাতৃপুষ্টির গুরুত্ব, নির্দিষ্ট পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা এবং বাংলাদেশে মাতৃপুষ্টির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানের সময় পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আলোচনা করেন আইসিডিডিআর,বি’র পুষ্টি গবেষণা বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ড. মোস্তফা মাহফুজ। বাংলাদেশে মাতৃপুষ্টির অবস্থা শীর্ষক আলোচনা করেন আইসিডিডিআর,বি’র পুষ্টি গবেষণা বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ড. এস এম তাফসীর হাসান। সমাপনী বক্তব্য রাখেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ।