‘সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় প্রবীণদের জন্য প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রজন্মের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে ‘বিশ্ব প্রবীণ দিবস ২০২৩’ পালিত হয়েছে। রবিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের কর্মসূচি যৌথভাবে পালন করে ‘অল বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ ও ‘ডিমেনশিয়া কেয়ার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’। এদিন সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের পূর্ব পাশে সমবেত হয়ে শোভাযাত্রা এবং সোবহানবাগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প থেকে চক্ষু, মেমোরি ডিমেনশিয়া ও ব্লাড সুগার টেস্ট এবং ব্লাড প্রেসার, পালস ও অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ প্রবীণদের অধিকারের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবীণদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ঘরে-বাইরে কোথাও যেন তারা হয়রানি ও অবহেলার শিকার না হন, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’
উপাচার্য আরও বলেন, ‘প্রবীণরা যেন নিগৃহীত না হন, প্রত্যেক ছেলে-মেয়েরই তার বাবা-মায়ের পরিচর্যা করা অপরিহার্য কর্তব্য। এ ব্যাপারে কোর্টের একটি নির্দেশনা আছে যে, বাবা-মাকে আলাদা করা যাবে না। সেই আইনটি যেন অবশ্যই অনুসরণ করা হয়।’
উপাচার্য বলেন, ‘হাসপাতালসহ সর্বত্র সেবা গ্রহণের বেলায় প্রবীণদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। তারা যেন নিশ্চিতভাবেই সুবিধা পান। বাসে-ট্রেনে যেখানেই হোক, প্রবীণদের বসতে দিতে হবে। দেখামাত্র তাদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ কারও কাছেই যেন প্রবীণরা সামান্যতম হয়রানির শিকার না হন, এ ব্যাপারে আমাদেরকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে মামলা-মোকদ্দমা, জেরাসহ প্রয়োজনীয় কথা-বার্তা তাদের বাসায় গিয়ে করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে আইন করা যেতে পারে। শিশু ও নারীদের জন্য যেমন বাজেটে বরাদ্দ আছে, প্রবীণদের জন্যও তেমনটা থাকা প্রয়োজন।’
উপাচার্য প্রবীণদের সুস্থ থাকতে সুশৃঙ্খল জীবন-যাপনের পাশাপাশি সুষম খাবার গ্রহণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতি দিন একটি করে ডিম খেতে পারেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, হার্টের জন্যও ঝুঁকির না। আগে বলা হতো, তেল খাওয়া যাবে না। তবে মাছের তেল কিন্তু হার্টের জন্য উপকারী। এসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।’ এ সময় মনের স্বাস্থ্যের সুস্থতার বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মনটা ভালো রাখবেন। হাসলেই তো মনটা ভালো থাকে। সুতরাং সবাই হাসুন।’
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন অল বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে ডিমেনশিয়া কেয়ার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাসচিব রাশেদ সোহরাওয়ার্দী, অল বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস অলফেয়ার সোসাইটির মহাসচিব প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক (সার্জিক্যাল অনকোলজি) ডা. মো. রাসেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।