সেই দুই শিশু ছাড়া পেলো হাসপাতাল থেকে

একদল চিকিৎসকের দীর্ঘ তিন মাসের নিরলস প্রচেষ্টার পর আরেকটি সাফল্যের দেখা পেলো দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞান। জটিল এক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জোড়া লাগানো শিশু আবু বকর ও ওমর ফারুককে সফলভাবে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছেন চিকিৎসকরা।

গত ২০ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে সম্পন্ন হয় জটিল এই অস্ত্রোপচার। অস্ত্রপচারের পর পর্যবেক্ষণ শেষে আজ (৪ অক্টোবর) ছাড়া পেলো সেই দুই শিশু। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা এখন সুস্থ। দেশের বাইরে এমন অস্ত্রোপচারে খরচ পড়তো কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে যা সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৩ লাখ টাকায়। এই চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পেটে ও বুকে জোড়া লাগানো থেকে পৃথক হওয়া ৯২ দিন বয়সী দুই শিশু অবশেষে বাড়ি ফিরছে। সব ধরনের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হয়ে তারা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় সব চিকিৎসা কার্যক্রম শেষ হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিদায় জানানো হয়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালটির শিশু সার্জারি বিভাগের কেবিন ব্লকের অপারেশন থিয়েটারে সফলভাবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুই শিশু আবু বকর ও ওমর ফারুককে আলাদা করা হয়।

হাসপাতাল থেকে বিদায়ের সময় জানানো হয় তাদের লিভার ও বুকের হাড় সংযুক্ত ছিল। তবে সব ধরনের ঝুঁকি মুক্ত হয়ে দুই জনই এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। শিশুদের বাবা-মা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

বিএসএমএমইউ জানিয়েছে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা চায়না বেগম ও আল আমিন শেখের ঘরে চলতি বছরের ৪ জুলাই বুকে-পেটে জোড়া লাগানো দুই নবজাতকের জন্ম হয়। তাদের শরীরের জটিলতা নিরসনের জন্য গত ৫ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম জাহিদ হোসেনের অধীনে ২০১নং কেবিনে ভর্তি করা হয়। পরে যমজ দুই নবজাতকের চিকিৎসার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জটিল এই অপারেশনে শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. কেএম দিদারুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুশংকর কুমার মন্ডল, সহকারী অধ্যাপক ডা. কেএম সাইফুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. নুর মোহাম্মদ, মেডিক্যাল অফিসার ডা. উম্মে হাবিবা দিলশাদ মুনমুন ছাড়াও বিভাগের অন্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসকরা শিশু দুটিকে কোলে নিয়ে হাসি মুখে বিদায় দেন। এ সময় বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দেশের সার্জনরা এ ধরনের জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে সক্ষম এবং এমন রোগের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। স্বল্প খরচে দেশের প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধাতেই বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের জোড়া শিশুদের অপারেশনের জন্য রোগীরা আসছেন। আমাদের হাতে এমন আরেকটি কেস রয়েছে। খুব শিগগিরই তাদের অপারেশ করা হবে।’

এ সময় অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ ওমর ফারুক ও আবু বকরের মা-বাবার হাতে ছাড়পত্র ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন। একইসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া শিশুদ্বয়ের জন্য চিকিৎসা সহায়তার অর্থের চেকও তুলে দেন।