‘মিডওয়াইফারি পেশায় বিদ্যমান শূন্যতা পূরণ করা হবে’

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালক মাকসুরা নূর বলেছেন, মিডওয়াইফারি পেশায় বিদ্যমান শূন্যতা পূরণ করা হবে। ২০৩০ সালের জন্য নির্ধারিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিয়ে আমরা মিডওয়াইফারি পেশায় বিদ্যমান শূন্যতা পূরণ এবং সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মিডওয়াইফারি এডুকেশন প্রোগ্রাম, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের যৌথ উদ্যোগে ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

মাকসুরা নূর বলেন, ‘আমাদের যে অর্জন তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। আমাদের আরও কাজ করতে হবে। মিডওয়াইফারি খাতে ১০ হাজার পদ তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এটি হয়ে গেলে সৃষ্টি হবে ১৫ হাজার পদ। আমাদের বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। বেসরকারি খাত ছাড়া আমরা এতো সংখ্যক মিডওয়াইফ বা ধাত্রী নিয়োগ দিতে পারবো না।’

তিনি বলেন, ‘এখনও অনেক বেসরকারি হাসপাতালে লেবার রুম নেই। বেসরকারি হাসপাতালের জন্য এমন নীতিমালা তৈরি করতে হবে, যেখানে লেবার রুম না থাকলে লাইসেন্স বাতিল করা যায়। সেখানে পাঁচ-ছয় জন মিডওয়াইফ থাকতে হবে। এছাড়া মিডওয়াইফদের জন্য আলাদা কোনও শিক্ষক নেই, তাদের প্রশিক্ষণ নিতে হয় নার্সদের কাছ থেকে। তাদের জন্য আলাদা শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে হবে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষে ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘পেশাদার মিডওয়াইফারিদের দেওয়া সেবা মাতৃত্বকালীন পরিচর্যা, মা ও শিশুমৃত্যু কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারকে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের মিডওয়াইফ সেবার পরীক্ষিত মডেলকে সম্প্রসারণ করতে হবে।’

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ডা. শারমিনা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে মিডওয়াইফরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশে তাদের পরিষেবার জন্য ভবিষ্যতে ২২ হাজারের বেশি মিডওয়াইফের নিয়োগ ও পদায়ন প্রয়োজন।’

সেমিনারে আরও বলা হয়, মা ও শিশুমৃত্যু কমানো, অসুস্থ ও মৃত সন্তান প্রসবের হার কমিয়ে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ আগামীতে দেশের উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রাখবে মিডওয়াইফারি। গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মিডওয়াইফারি খাতে বিনিয়োগের গুরুত্বারোপ করে মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমাতে এই খাতের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। এ সময় বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতিতে মিডওয়াইফারি শিক্ষা, প্রয়োজনীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান তৈরি ও কাজের সঠিক পরিবেশের ওপর জোর দেওয়া হয়।

গবেষণায় বলা হয়, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হ্রাস করার লক্ষ্যে মিডওয়াইফারি খাত বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু, অসুস্থতা এবং মৃত সন্তান প্রসব কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আসছে দিনগুলোতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সম্যক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে মিডওয়াইফারি শিক্ষা ও পেশার সম্প্রসারণ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন– ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের মিডওয়াইফারি বিশেষজ্ঞ জয় কেম্প, বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রাশিদা আক্তার, সম্প্রতি বেগম রোকেয়া পদক প্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. হালিদা হানুম আক্তার।