সেবার মান উন্নয়নে ঢামেকে ১০০ দিনের পরিকল্পনা

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও দালালদের প্রবেশ নিষিদ্ধ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) সেবার মান উন্নয়নে ১০০ দিনের কর্মসূচি নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  সরকারি সহায়তায় অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্পন্ন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও দালালদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান।

১০০ দিনের কর্মসূচি জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ঢামেক কর্তৃপক্ষ মিলিতভাবে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ড স্থাপন এবং বিনামূল্যে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কেবিনগুলো সংস্কার করা। আইসিইউ (জেনারেল ১৩টি এবং অক্স ৫টি) এর শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিতির হার বাড়ানো এবং যথা সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের এবং বহিরাগত দালালদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে না দেওয়া। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতাল চত্বর থেকে সরিয়ে সেই জায়গায় রোগী এবং রোগীর সঙ্গে আগত লোকজনের বিশ্রামের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

হাসপাতালে হয় এমন সব প্যাথলজিক্যাল টেস্ট এবং এক্সরে, সিটি ক্যান ইত্যাদি হাসপাতালেই বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা নিয়ে এই খাতে রাজস্ব বৃদ্ধি করাসহ আরও কিছু কর্মপরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, টিকিটিং ব্যবস্থায় ডিজিটাল কার্যক্রম জোরদার করা হবে। ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের আচরণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা-বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম জোরদরের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং  অভ্যর্থনা বা তথ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

হাসপাতালে অধিক লোকসমাগম নিয়ে পরিচালক বলেন, অনেকেই বলেন ঢাকা মেডিক্যাল যেন মাছের বাজার৷ এর কারণ একজন রোগীর সঙ্গে অনেক লোক থাকেন। অনেকেই দেখা করতে আসেন। আমরা এখন থেকে দু'টি কার্ড দেবো, রোগীকে কেউ দেখতে চাইলে কার্ড দেখিয়ে ঢুকতে হবে। কার্ড ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আনসারদের স্ট্রিকলি বলে দেওয়া হবে।