স্বাস্থ্য অধিদফতরে চিকিৎসকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৩

স্বাস্থ্য অধিদফতরে চিকিৎসকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় তিন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। সোমবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মহাখালী টিবি গেটে স্বাস্থ্য অধিদফতর ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এবং জামায়াতপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফের) মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানিয়েছে একাধিক চিকিৎসক।

চিকিৎসকদের অভিযোগ ‘একক আধিপত্য’ বিস্তারের চেষ্টায় ড্যাব এবং এনডিএফ’র মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ড্যাবের নেতারা নিজেদের পছন্দের বাইরে অন্য কোনও নিয়োগ মেনে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য বিএনপিপন্থি এই চিকিৎসকরা অবস্থান নিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরে। অভিযোগ আছে, পছন্দের বাইরে গেলেই ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অস্থিরতা তৈরি করছে এই চিকিৎসকরা। রবিবার থেকে চলমান বিক্ষোভ থেকে পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এবিএম আবু হানিফসহ লাইন ডিরেক্টরদের অপসারণের দাবি জানায় তারা।

মহাখালী টিবি গেটে স্বাস্থ্য অধিদফতর ভবনে চিকিৎসকদের দুই গ্রপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল থেকেই অধিদফতরের সামনে অবস্থান নেন ড্যাব’র চিকিৎসকরা। এ সময় তারা সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য প্রশাসকদের ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। অন্যদিকে অধিদফতরের ভেতরে অবস্থান নিয়ে স্বাস্থ্য খাত সচল রাখতে বর্তমান নিয়োগপ্রাপ্তদের কাজের পথ সুগম করার দাবি জানান এনডিএফ’র চিকিৎসকরা।

এ সময় দুই পক্ষ পরস্পরবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে এনডিএফপন্থি চিকিৎসক ও ড্যাবপন্থি চিকিৎসকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং তা হাতাহাতি পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে এরই মধ্যে একদল রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিন জন আহত হন।

এনডিএফপন্থি চিকিৎসকদের দাবি, ড্যাবের সঙ্গে থাকা বহিরাগত সন্ত্রাসীরা রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তিন জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

ড্যাবপন্থিদের হামলায় আহত ডা. ইমরান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের সামনে সকাল ৮টা থেকে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেই। বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ বহিরাগতদের নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায় ড্যাবের বিএনপিপন্থি চিকিৎসকরা। তাদের সঙ্গে ছাত্রদল-যুবদলসহ চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসীও ছিলেন। হামলায় আমাদের একজন চিকিৎসক গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।’

পরে হামলার বিচার চেয়ে অধিদফতরে মিছিল ও সমাবেশ করেন এনডিএফপন্থি চিকিৎসকরা। এ সময় তারা বলেন, আজকের মধ্যে হামলার বিচার ও চলমান সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অধিদফতর ছেড়ে যাবেন না।

হামলার প্রতিবাদে পরে অধিদফতরের বিভিন্ন ফ্লোরে বিক্ষোভ মিছিল করেন এনডিএফ ও বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসকরা। এ সময় ‘বহিরাগত দিয়ে চিকিৎসকের ওপর হামলা কেন, বিচার চাই বিচার চাই’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। তবে হামলার বিষয় অস্বীকার করেন ড্যাবপন্থিরা। 

এনডিএফের স্বাস্থ্য অধিদফতর শাখার ফোকাল পারসন ডা. আব্দুল কাদির নোমান জানান, আমাদের ওপর কেন হামলা হলো? আমরা বিশ্বাস করি, হামলাকারীরা কোনও চিকিৎসক নন। ড্যাবের একটা অংশ বহিরাগতদের ভাড়া করে এনে হামলা করেছেন। হামলার ভিডিও ফুটেজ আছে, অধিদফতরের সিসি টিভি ফুটেজ আছে। অধিদফতরের প্রশাসকদের হামলাকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা আমরা আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ড্যাবের নেতারা। তারা বলেন, ‘এনডিএফের কয়েকজন শুরুতে আমাদের লোকদের গায়ে হাত উঠায়। এরপরই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কেউ সামান্য আঘাত পেয়ে থাকতে পারে। কাউকে মারধর করা হয়নি।’

ড্যাব নেতারা বলেন, আমরা চাই, স্বচ্ছ ব্যক্তিদের অধিদফতরে প্রশাসনে বসানো হোক। অতীতে স্বৈরাচার সরকারের তোষামোদি করেছে, নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে এমন ব্যক্তিকে বসতে দেওয়া হবে না। সরকার দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবে বলে আমরা আশা রাখছি।