বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত কাজলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসে আহত কাজলকে দেখতে এসে একথা জানান তিনি। এসময় স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবু জাফর ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ডা. আহাদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দিয়েছিলেন কাজল। পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন তিনি। এরপর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন কাজল।
নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, ধীরে ধীরে তার উন্নতি হচ্ছিল। কিন্তু গত দুদিন আগে হঠাৎ করে ইনফেকশন হয়। বেশ কয়েকবার তার ডায়রিয়া হয়। এতে করে তার রক্তচাপ কমে শকে চলে যায়। পরে হাসপাতালে বোর্ড করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শনিবার সকাল থেকে অবস্থা খারাপ হতে থাকে। আজও বোর্ড মিটিং বসে। তার অবস্থা স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে জানানো হয়। কাজলের অবস্থা জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেন তিনি।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টার অনুরোধে হাসপাতালে যান উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তাকে দ্রুত থাইল্যান্ডের বেজথানি হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে তিনি জানান, শনিবার হওয়ায় ভিসা পাওয়া যাচ্ছে না।
তথ্য উপদেষ্টা তার ভিসা ও খরচের ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন। দুই মন্ত্রণালয় থেকেই সবুজ সংকেত পান। পরে সিদ্ধান্ত হয় কাজলকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাইল্যান্ড নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বরাত দিয়ে চিকিৎসকরা জানান, ভিসা না থাকায় কাজলকে আজ থাইল্যান্ড নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে থাই ভিসা সেন্টারে যোগাযোগ করা হয়। আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল রবিবার ভিসা পাওয়া যাবে। ভিসা পাওয়ার পরই থাইল্যান্ডের উদ্দেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রওনা দেবেন কাজল।