মাদক নির্ভরশীলদের পুনর্বাসনে চিকিৎসার প্রয়োজন

‘মাদকের বিরুদ্ধে হই সচেতন, বাঁচাই প্রজন্ম, বাঁচাই জীবন’— স্লোগানকে সামনে রেখে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পারিবারিক সচেতনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (২২ মার্চ) রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্যোগে ফ্যামিলি এডুকেশন সভা অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে চিকিৎসারত রোগীদের অভিভাবকদের জন্য মাদক নির্ভরশীলতার সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। 

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আখতারুজ্জামান সেলিম। 

মাদক নির্ভরশীলতা শুধুমাত্র অভ্যাস নয়, এটি মস্তিষ্কের রোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাদক নির্ভরশীলতা একটি জটিল পুনঃআসক্তিমূলক মস্তিষ্কের রোগ। অনেক অভিভাবক একে কেবল খারাপ অভ্যাস মনে করেন, ফলে অধিকাংশ মাদকাসক্ত ব্যক্তি পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা নেন না, যা সুস্থতায় বড় বাধা সৃষ্টি করে।’

ডা. মো. আখতারুজ্জামান সেলিম আরও বলেন, ‘পরিবারের সহযোগিতা ও সচেতনতা মাদক নির্ভরশীলদের সুস্থ জীবনে ফেরানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’

অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা ও মতামত

সভায় উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ম্যানেজার মোসা. মানুয়ারা, সহকারী সেন্টার ম্যানেজার রোজিনা খাতুন, কাউন্সেলর ফাতেমা তাশরিন মিতু ও মাহমুদা আলম, কেস ম্যানেজার শরিফা খাতুন এবং চিকিৎসারত রোগীদের ২২ জন অভিভাবক। 

অভিভাবকরা বলেন, ‘মাদক শুধু ব্যক্তির ক্ষতি করে না, এটি পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি মানসিক ও সামাজিকভাবে সংক্রমিত হতে পারে, তাই সচেতনতা ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা খুব জরুরি।’

মাদক নির্ভরশীলদের পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ২০১৪ সাল থেকে নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনা করছে, যেখানে বিশেষায়িত সেবার মাধ্যমে মাদক নির্ভরশীল নারীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করা হচ্ছে। 

সভায় বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবারের ভূমিকা, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও সচেতনতার ওপর জোর দেন এবং এ বিষয়ে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। 

/এবি/আরআইজে/

মাদক নির্ভরশীলদের পুনর্বাসনে চিকিৎসার প্রয়োজন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

‘মাদকের বিরুদ্ধে হই সচেতন, বাঁচাই প্রজন্ম, বাঁচাই জীবন’— স্লোগানকে সামনে রেখে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পারিবারিক সচেতনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (২২ মার্চ) রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্যোগে ফ্যামিলি এডুকেশন সভা অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে চিকিৎসারত রোগীদের অভিভাবকদের জন্য মাদক নির্ভরশীলতার সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। 

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আখতারুজ্জামান সেলিম। 

মাদক নির্ভরশীলতা শুধুমাত্র অভ্যাস নয়, এটি মস্তিষ্কের রোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাদক নির্ভরশীলতা একটি জটিল পুনঃআসক্তিমূলক মস্তিষ্কের রোগ। অনেক অভিভাবক একে কেবল খারাপ অভ্যাস মনে করেন, ফলে অধিকাংশ মাদকাসক্ত ব্যক্তি পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা নেন না, যা সুস্থতায় বড় বাধা সৃষ্টি করে।’

ডা. মো. আখতারুজ্জামান সেলিম আরও বলেন, ‘পরিবারের সহযোগিতা ও সচেতনতা মাদক নির্ভরশীলদের সুস্থ জীবনে ফেরানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’

অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা ও মতামত

সভায় উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ম্যানেজার মোসা. মানুয়ারা, সহকারী সেন্টার ম্যানেজার রোজিনা খাতুন, কাউন্সেলর ফাতেমা তাশরিন মিতু ও মাহমুদা আলম, কেস ম্যানেজার শরিফা খাতুন এবং চিকিৎসারত রোগীদের ২২ জন অভিভাবক। 

অভিভাবকরা বলেন, ‘মাদক শুধু ব্যক্তির ক্ষতি করে না, এটি পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি মানসিক ও সামাজিকভাবে সংক্রমিত হতে পারে, তাই সচেতনতা ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা খুব জরুরি।’

মাদক নির্ভরশীলদের পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ২০১৪ সাল থেকে নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনা করছে, যেখানে বিশেষায়িত সেবার মাধ্যমে মাদক নির্ভরশীল নারীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করা হচ্ছে। 

সভায় বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবারের ভূমিকা, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও সচেতনতার ওপর জোর দেন এবং এ বিষয়ে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।