হামজনিত নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ

হামজনিত নিউমোনিয়া শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহারের ওপর দেশব্যাপী হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়, স্বাস্থ্য অধিদফতর (ডিজিএইচএস), বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বিএসএইচআই), এবং আইসিডিডিআর,বি-র সহযোগিতায় এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, সারা দেশে বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারের সম্প্রসারণ করা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএসএইচআইর শিশু সংক্রামক রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের পুনরায় প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরে বলেন, হামজনিত নিউমোনিয়া এখনও শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ; যা মোকাবিলায় জরুরি ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন।

স্বাগত বক্তব্যে বিএসএইচআই’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক বলেন, আইসিডিডিআর,বি স্বল্পমূল্যের ও কার্যকর বাবল সিপ্যাপ অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছে; যা নিউমোনিয়াজনিত মৃত্যুহার কমানোর পাশাপাশি অক্সিজেন ব্যবহারের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।

তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা লো-ফ্লো অক্সিজেন থেরাপির তুলনায় বাবল সিপ্যাপ শিশুদের জীবন রক্ষায় বেশি কার্যকর এবং দেশব্যাপী এর ব্যবহার সম্প্রসারণের এখনই উপযুক্ত সময়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন আইসিডিডিআর,বি-র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ। তিনি সারা দেশে বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার সম্প্রসারণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আইসিডিডিআর,বি-র বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হয় না।

এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের আগস্ট থেকে আইসিডিডিআর,বি-র ঢাকা হাসপাতালে তীব্র নিউমোনিয়া ও হাইপোক্সেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপ নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশেও এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসায় নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানানসই চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসন্ধানের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, বাবল সিপ্যাপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করা হলে তিনি এই বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে এর প্রচারের নির্দেশ দেন।

তিনি হামের পুনরায় প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা ও শিশুদের সুরক্ষায় বিভিন্ন খাতের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান এবং মন্ত্রণালয়কে আইসিডিডিআর,বি-র সক্রিয় কারিগরি সহায়তার প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএসএইচআই পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

আইসিডিডিআর,বি-র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ডা. মুহাম্মদ যোবায়ের চিশতী ও তার সহকর্মীরা বাবল সিপ্যাপ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ, মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল, আইসিএমএইচ মাতুয়াইল, সংক্রামক রোগ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা অংশ নেন।