আমাকে বিএনপি হিসেবে ট্রিট করবেন না, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আমাকে বিএনপি হিসেবে ট্রিট করবেন না, একজন মানুষ হিসেবে দেখুন। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা।’ তিনি নিজের মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, দেশপ্রেম থেকেই মায়ের কান্না উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে বিএনপি হিসেবে ট্রিট করবেন না। একজন মানুষ হিসেবে দেখুন। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। অনেক ভালোবাসা দিয়ে আমার বিধবা মায়ের বুক থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। মা আমাকে ছাড়তে চাইছিলেন না। আমি বলেছিলাম, আমরা যদি কেউ না যাই, তাহলে দেশটা স্বাধীন করবে কে?’

তিনি বলেন, ‘মায়ের চোখের পানি মুছে যুদ্ধ করতে চলে গিয়েছিলাম। সেদিন ভাবিনি আর ঘরে ফিরতে পারব কি না। নয় মাস মায়ের সঙ্গে আমার কোনো দেখা হয়নি। ছয় মাস পর্যন্ত আমি কোথায় আছি, সেই খবরও তিনি জানতেন না। দেশকে ভালোবেসেই যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম।’

বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবারের ভূমিকাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, যার পিতা এই দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। আমি মেজর জিয়ার কথা বলছি। তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি, যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিয়েছেন, সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে দেশকে স্বাধীন করতে ভূমিকা রেখেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মা-ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি কোনো স্বৈরাচারের সঙ্গে আপস করেননি এবং সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগের দিন এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রীদের উদ্দেশে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে একটি প্রস্তাব দেন। 

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, আপনারা আমার কথা রাখতেও পারেন, নাও রাখতে পারেন। তবে আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে বলছি। আমার বাবা প্রতি মাসে তার বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিতেন, যাতে গরিব মানুষের কল্যাণে বা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তা ব্যয় করা যায়।’

নিজের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘আমিও বেতন নিচ্ছি। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এর ১০ শতাংশ, অর্থাৎ ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন অ্যাকাউন্টে আসার পর তুলে সরকারি হিসাবে জমা দিই।’