সাপে কাটা ও পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

বন্যাকবলিত এলাকায় সাপে কাটা রোগী ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়লেও এখন পর্যন্ত সাপে কেটে কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে ২১ হাজার অ্যান্টিভেনম, প্রায় চার লাখ ব্যাগ খাবার স্যালাইন এবং বিপুল পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টিতে কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দেওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সতর্ক রাখা হয়েছে। গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা দুর্গত মানুষের শারীরিক অবস্থার খোঁজ রাখছেন। কেউ অসুস্থ হলে বা সাপে কাটলে দ্রুত নিকটবর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যায় এ পর্যন্ত যাদের সাপে কেটেছে, তাদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে অ্যান্টিভেনম দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সাপে কেটে একজন রোগীও মারা যাননি।

তবে সাপে কাটা রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যথাসময়ে হাসপাতালে আনা গেলে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের মাধ্যমে রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। এ কারণে দুর্গত এলাকার স্বাস্থ্যকর্মীদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

বন্যাকবলিত এলাকায় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও গর্ভবতী নারীর প্রসবের সময় হলে বা শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাকে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

প্রয়োজনে স্পিডবোট ব্যবহার করা হবে। স্পিডবোট না পাওয়া গেলে স্থানীয়ভাবে পাওয়া নৌযান বা অন্য কোনও বাহনের মাধ্যমে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গ্রাম পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বলা হয়েছে, গর্ভবতী মা ও শিশুদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখতে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনও খারাপ সংবাদ পাওয়া যায়নি।

ঘরে ঘরে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পানিবাহিত রোগ, বিশেষ করে ডায়রিয়া ও কলেরার ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দুর্গত এলাকায় সাত লাখ ২৯ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে এসব ট্যাবলেট পৌঁছে দিচ্ছেন।

মন্ত্রণালয়ের মজুতে আরও ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রয়েছে। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো দুর্গত এলাকায় পাঠানো হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়নি। তবে পানি নেমে যাওয়ার পর রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

প্রায় চার লাখ ব্যাগ খাবার স্যালাইন প্রস্তুত

ডায়রিয়া ও কলেরার রোগীদের চিকিৎসায় তিন লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯ ব্যাগ খাবার স্যালাইন প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নয় হাজার ৯৯৫ ব্যাগ সাধারণ স্যালাইনও মজুত রয়েছে।

তিনি বলেন, পানিবাহিত রোগ দেখা দিলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতিদিন অনলাইনে বৈঠক করে পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

সাতকানিয়া হাসপাতালে আবার পুরোদমে চিকিৎসা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বন্যার পানি উঠেছিল উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পানি ওঠার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ওপরের তলায় সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে পানি নেমে যাওয়ায় হাসপাতালটি আবার পুরোদমে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়োজিত আছেন। তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নারী, শিশু, গর্ভবতী মা এবং সাপে কাটা রোগীদের বিষয়ে বিশেষভাবে খোঁজ রাখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় এবার বন্যাকবলিত মানুষের কাছে দ্রুত ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দুর্গত এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, অ্যান্টিভেনম, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।