ঢামেক হাসপাতালে বদলির ইস্যুতে আবারও হট্টগোল, পরিচালক অবরুদ্ধ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের এক কর্মচারীর বদলির ইস্যুতে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ করেছেন চিকিৎসকদের একটি অংশ ও বেশ কিছু শিক্ষার্থী। প্রায় শতাধিক চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের অনেকে পরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেন।

এ সময় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা পরিচালকের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলেও চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে তারা প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তারা এক পাশে অবস্থান নেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত এ বিক্ষোভ চলে।

খবর পেয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও ড্যাবের নেতারা হাসপাতালে ছুটে আসেন। তাদের হস্তক্ষেপে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা পরিচালকের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান।

ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, ‘যে বিষয় নিয়ে জটিলতা হয়েছিল, তা সমাধানের পথে। যে যার কাজে ফিরে গেছেন। বর্তমানে সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক দুজনই ভেতরে বসে কথা বলছেন।’

চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিচালক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া এবং দুর্নীতিবাজ। হাসপাতালের এক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই বদলি পরিচালক ঠেকিয়ে দেন। কারণ, তারা একসঙ্গে দুর্নীতি করতেন। এছাড়া পরিচালক ফ্যাসিস্টের দোসর এবং জুলাইয়ে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দিতে বাধা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

আলোচনা শেষে স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটনাটি ঘটেছে। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এক কর্মচারীর বদলির বিষয় ছিল। পরে সেটি বাতিল করে বহাল রাখা হয়েছে।’ পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার দুপুরে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলিকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকরা ওই কর্মকর্তার কক্ষে তালা মারতে গেলে এক কর্মচারী বাধা দেন। এতে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে কর্মচারীদের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।