ডেঙ্গুর প্রকোপ যতটা হওয়ার আশঙ্কা ছিল, তার তুলনায় কম হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ‘সবাইকে সম্পৃক্ত করে উদ্যোগ নেওয়ায় বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আক্রান্তের হার কম।’
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর কড়াইল টিএন্ডটি খেলার মাঠে বিশেষ হাম-রুবেলা ক্যাচ আপ ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর টিকাদান সেশন পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ইতোমধ্যে দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাসে আরও প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনি প্রচারণা ও ইশতেহারে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি জনগণের উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ কাজে যুক্তরাষ্ট্র সরকার, গ্যাভি, ইউনিসেফ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী ও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সহযোগিতা করছেন।’
হাম প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এরই মধ্যে দুই কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার পরও সরকার কার্যক্রম থামিয়ে দেয়নি। কারণ প্রতিটি শিশুর জীবন গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুও যেন টিকা থেকে বাদ না পড়ে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। এ কারণে এবারের কর্মসূচিকে ‘মপ-আপ ক্যাম্পেইন’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।’
এই কর্মসূচির আওতায় প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার শিশু, প্রতিবন্ধী শিশু এবং আগের ধাপের টিকাদান থেকে কোনো কারণে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।