করোনার অতি সংক্রমণশীল ওমিক্রনের প্রকোপের পর তার নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (৯ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ১০ মার্চ সকাল ৮টা) করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩২৭ জন আর এ সময়ে মারা গেছেন তিন জন। শনাক্তের হার ২ শতাংশের ঘরে।
অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় তিন অঙ্কের রোগী শনাক্ত হয়েছে মাত্র ১ জেলায়। ঢাকা বিভাগের ঢাকা মহানগরসহ ঢাকা জেলায় ২৩৯ জন।
দুই অঙ্কের রোগীও শনাক্ত হয়েছেন এক জেলায়। চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলায়; ১৮ জন।
দেশের বাকি ৬২ জেলার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় এক অঙ্কের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৪ জেলায় আর এ সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়নি দেশের ৩০ জেলায়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, গত দুই বছর ধরে দেশে করোনা মহামারিতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি-নিম্নমুখী ধারা বেশ কয়েকবার দেখা গেছে। তবে বর্তমানে দেশ করোনা স্বাভাবিক এবং স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে রয়েছে। তবে এ নিয়ে সতর্ক বার্তাও দিয়েছে অধিদফতর।
তবে এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার উপায় নেই জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন জানিয়েছেন, করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। দীর্ঘদিন আমাদের এগুলো মেনে চলতে হবে।
এখনি মাস্ক খুলে ফেলার মতো কোনও কিছু হয়নি জানিয়ে অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, আমরা দেখেছি, ইতোমধ্যে অনেকেই ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা ভাবছেন, এর প্রভাব কমে গিয়েছে। রোগী শনাক্ত এবং নমুনা পরীক্ষা কমে গেছে। এর জন্য অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না বা মাস্ক খুলে ফেলার পেছনে যুক্তি দিচ্ছেন।
কিন্তু ভাইরাসের মিউটেশন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভাইরাসের এখনও ইভ্যালুশন হচ্ছে। আবারও নতুন করে কোনও ভ্যারিয়েন্ট আসবে কিনা সে শঙ্কাটা থেকেই যাচ্ছে। ওমিক্রনের যেসব নতুন নতুন উপধরন বিএ.২ বা অন্য কিছু, তা চলে আসার আশঙ্কা থাকবে।
আমাদের যেসব রিস্কি গ্রুপ আছে—ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশন, ক্যানসারের রোগী, যারা স্টেরয়েড পাচ্ছেন—তাদের ক্ষেত্রে ওমিক্রনও মারাত্মক করতে পারে, বলেন অধ্যাপক রোবেদ আমিন।