দক্ষ করপোরেট কমিউনিকেটর কীভাবে হবেন, ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ কেমন

কোনো প্রতিষ্ঠানের ভালো পণ্য বা সেবা থাকলেই হয় না, সেটি মানুষের কাছে কীভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, সিদ্ধান্ত, সাফল্য কিংবা সংকটের বিষয়গুলো কর্মী, গ্রাহক, গণমাধ্যম ও অন্যান্য মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন করপোরেট কমিউনিকেটর। যোগাযোগ ও লেখালেখিতে দক্ষ তরুণদের জন্য তাই এই পেশা হতে পারে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় একটি ক্যারিয়ার।

করপোরেট কমিউনিকেটররা কী করেন

সহজভাবে বললে, একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে সঠিক মানুষের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই করপোরেট কমিউনিকেটরের প্রধান কাজ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি লেখা, গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তৈরি, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রচারণার যোগাযোগ পরিকল্পনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় বার্তা তৈরির মতো কাজ করতে হয় তাদের।

কোনো প্রতিষ্ঠানের নতুন পণ্য বাজারে এলে সেটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তথ্য দেওয়া থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের বড় কোনো ঘোষণা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে, সেই পরিকল্পনাতেও করপোরেট কমিউনিকেশনস টিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সংকটের সময়ও বড় দায়িত্ব

এই পেশার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো সংকটের সময় যোগাযোগ সামলানো। কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা নিয়ে অভিযোগ উঠলে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনা শুরু হলে কিংবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য যাচাই করে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান পরিষ্কার করতে হয়।

এ সময় ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই একজন করপোরেট কমিউনিকেটরকে চাপের মধ্যেও শান্ত থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও স্পষ্টভাবে তা উপস্থাপন করতে জানতে হয়।

কী কী দক্ষতা দরকার

এই পেশায় আসতে চাইলে প্রথমেই ভালো লেখার দক্ষতা থাকা জরুরি। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পরিষ্কার, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয়ভাবে লিখতে পারা বড় সুবিধা দেয়। এর পাশাপাশি ভালোভাবে কথা বলা, উপস্থাপনা দেওয়া, মানুষের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক তৈরি করা এবং গণমাধ্যম কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার এবং অনলাইন কনটেন্ট সম্পর্কেও ধারণা থাকলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্য যাচাই। কোনো খবর বা বক্তব্য প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার অভ্যাস একজন দক্ষ কমিউনিকেটরকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখতে পারে।

কোন বিষয়ে পড়াশোনা করলে সুবিধা

করপোরেট কমিউনিকেশনসে কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। তবে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ইংরেজি, ব্যবসায় প্রশাসন, মার্কেটিং, জনসংযোগ বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা থাকলে এই পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

তবে শুধু ডিগ্রি থাকলেই হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সংবাদ লেখা, উপস্থাপনা, বিতর্ক, অনুষ্ঠান পরিচালনা কিংবা বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরির অভিজ্ঞতা অর্জন করলে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে তা কাজে আসে।

কোথায় কাজের সুযোগ

ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি, তৈরি পোশাক, ওষুধ কোম্পানি, স্টার্টআপ, উন্নয়ন সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানে করপোরেট কমিউনিকেশনসের কাজ রয়েছে।

অনেকে প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করেন। আবার অভিজ্ঞতা অর্জনের পর যোগাযোগ পরামর্শক হিসেবেও কাজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার কেমন

ডিজিটাল যোগাযোগের পরিধি যত বাড়ছে, প্রতিষ্ঠানের জন্য দক্ষ যোগাযোগ পেশাজীবীর প্রয়োজনও তত বাড়ছে। এখন একটি প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ শুধু সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বা সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ভিডিও, ওয়েবসাইট, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এবং সংকট ব্যবস্থাপনা; সব ক্ষেত্রেই পরিকল্পিত যোগাযোগ প্রয়োজন।

তাই যারা লেখালেখি করতে ভালোবাসেন, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং তথ্যকে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারেন, তাদের জন্য করপোরেট কমিউনিকেশনস হতে পারে ভালো একটি ক্যারিয়ার পথ।

প্রতিষ্ঠানের হয়ে কথা বলার পাশাপাশি সেই প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছে কীভাবে পরিচিত হবে, সেই গল্পটিও তৈরি করেন একজন করপোরেট কমিউনিকেটর। যোগাযোগের দক্ষতাকে পেশায় রূপ দিতে চাইলে তাই এই ক্ষেত্রটি হতে পারে বিবেচনার মতো একটি সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার।