বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে জব ফেয়ার। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) খুলনার গোল্লামারিতে একটি হোটেলে এ আয়োজন করা হয়। মেলায় ১৮টি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ৭০০ যুবক অংশ নেন। এ মেলা থেকে সরাসরি ২৮৫ জন বেকার যুবক তাৎক্ষণিক যোগদানপত্র পেয়েছেন। অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার ও পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
খুলনা শহর এলাকা উন্নয়ন কর্মসূচি (কেএসএডিপি), ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, সিএসএস হোপ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, এশিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (এটিটিসি) এবং খুলনা যুব উন্নয়ন অধিদফতর যৌথভাবে এ আয়োজন করে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তিকে সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ থেকে কর্মসংস্থানের পথকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়ক (বাহ্যিক সম্পৃক্ততা, যুব উন্নয়ন ও নগর জীবিকা) ড. মো. রুহুল আমিন সরকার জানান, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় সারা দেশে প্রায় ৯ হাজার ৮০০ বেকার যুবককে দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। প্রশিক্ষিত যুবকরা দুটি প্রধান পথ অনুসরণ করতে পারে। স্ব-কর্মসংস্থান এবং মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থান, যেখানে চাকরি মেলা-২০২৬ বিশেষভাবে মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের ওপর আলোকপাত করবে। তিনি খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে খুলনা শহরের মধ্যে প্রশিক্ষিত যুবকদের জন্য ফাস্ট-ফুড ও অন্যান্য স্ব-কর্মসংস্থানমূলক ব্যবসা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেন।
অুনষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, দক্ষ তরুণরা তাদের সম্প্রদায় এবং দেশের জন্য মূল্যবান সম্পদ। বাংলাদেশে একটি বিশাল যুব জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং উপযুক্ত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে উৎপাদনশীল অবদানকারী হয়ে উঠতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু চাকরি মেলাকে প্রায় ৭০০ অংশগ্রহণকারী যুবকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি চাকরিপ্রার্থীদের উপযুক্ত নিয়োগকর্তাদের কাছে তাদের সিভি জমা দিতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে এবং এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রদত্ত সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন– ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এলাকা উন্নয়ন কর্মসূচি ব্যবস্থাপক, খুলনা শহর এলাকা উন্নয়ন কর্মসূচি-১ ও ২, কেএডিপিসিও সুরভী বিশ্বাস, যুব উন্নয়ন অধিদফতর খুলনার উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম, মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, খুলনার উপ-পরিচালক সুরেইয়া সিদ্দিকী, বিএসসিআইসি জেলা কার্যালয়, খুলনার ডিজিএম গোলাম সাকলাইন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর, খুলনার সহকারী মহাপরিদর্শক সাহাজাদ কবির, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেসবিনা খানম, বিডব্লিউসিসিআই, খুলনার বিভাগীয় প্রধান শামীমা সুলতানা শিলু, সিএসএস’র শিক্ষা পরিচালক ডেভিড টমাস গোমস, খুলনার এশিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।