চাকরি পেতে যে ১০ কৌশল জানা জরুরি 

বর্তমান যুগে একটি চাকরি পাওয়া সহজ নয়। শুধু অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট অর্জন করলেই ভালো চাকরি পাওয়া যায় না। এ জন্য প্রয়োজন সামান্য পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য নিয়োগকর্তার কাছে সঠিকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করা। শুরু করার জন্য নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করতে পারেন—

১. আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন

আপনি কী ধরনের চাকরি করতে চান এবং কোন কোন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করবেন—সে সবের একটি তালিকা তৈরি করুন। এতে আপনি কোন ধরনের কাজের দিকে এগোতে চাইছেন, সে সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি হবে।

২. অনলাইনে চাকরি খোঁজার কৌশল শিখুন

সঠিকভাবে অনলাইনে চাকরি খুঁজতে শিখুন। LinkedIn, Indeed, AngelList, Seek-এর মতো অনেক চাকরি খোঁজা ও পেশাগত যোগাযোগের ওয়েবসাইট রয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্ম বিনামূল্যে ব্যবহার করে ভালো চাকরির সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

৩. গতানুগতিক সিভি ব্যবহার করবেন না

অন্য আবেদনকারীদের থেকে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরতে ব্যক্তিগত ও আকর্ষণীয় সিভি তৈরি করার চেষ্টা করুন। আপনার শক্তির জায়গা, দক্ষতা এবং পূর্বের কোনো কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা অবশ্যই উল্লেখ করুন। এতে আপনার আবেদন আরও শক্তিশালী হবে।

৪. সরাসরি অনলাইনে আবেদন করুন

বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের পদে অনেক পার্টটাইম ও অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ‘Careers’, ‘Jobs’ বা ‘Employment’ বিভাগে গিয়ে শূন্য পদ সম্পর্কে জানতে পারেন। কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের ‘About Us’ বা ‘News’ বিভাগেও চাকরির সুযোগের তথ্য প্রকাশ করে।

৫. আশপাশের চাকরির সুযোগের দিকে নজর রাখুন

আপনি যে দেশে পড়াশোনা করছেন, সেখানে ছুটির সময়ে যেসব স্থানীয় প্রতিষ্ঠান অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করে, সেগুলোর দিকে নজর রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এর মধ্যে ফাস্টফুডের দোকান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র এবং ক্যাফের মতো প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে।

৬. প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন

চাকরির আবেদন করে কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়োগকর্তার উত্তরের জন্য বসে থাকবেন না। প্রতিটি আবেদনের বিষয়ে ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী খোঁজ নিতে পারেন। তবে অতিরিক্ত যোগাযোগ করে সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাকে বিরক্ত করা উচিত নয়।

৭. ক্যারিয়ার সেন্টারের সহায়তা নিন

ক্যারিয়ার সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের বিভিন্ন চাকরির শূন্য পদ, চাকরি মেলা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মশালা সম্পর্কে তথ্য থাকতে পারে, যা আপনার জন্য অনেক উপকারী হতে পারে।

কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার সেন্টার সিভি তৈরিতেও সহায়তা করে। পাশাপাশি চাকরি খোঁজা থেকে শুরু করে আবেদন পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে তারা আপনাকে দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

৮. সামাজিক যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরি করুন

পড়াশোনার সময় থেকেই নিজের পেশাগত যোগাযোগের নেটওয়ার্ক তৈরি করা শুরু করুন। ভবিষ্যতে চাকরি খোঁজার সময় এই নেটওয়ার্ক অত্যন্ত কাজে লাগতে পারে। বিভিন্ন কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়া এবং বিভিন্ন মিটআপ বা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি ভালো উপায়।

৯. নিজেকে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলুন

বর্তমানে নিয়োগকর্তাদের কাছে অনলাইনে আপনার উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলগুলোতে পেশাদার ভাব বজায় রাখুন।

সম্ভব হলে নিজের পড়াশোনা বা পেশাগত ক্ষেত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখতে পারেন। এতে সম্ভাব্য নিয়োগকর্তার কাছে আপনার জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

১০. দ্রুত চাকরি খুঁজুন

সেমিস্টার শেষ হওয়ার আগেই চাকরি খোঁজা শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে অপেক্ষার সময় কমবে এবং পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই কিংবা সেমিস্টার বিরতি শুরু হওয়ার আগেই একটি চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।