বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে আয় এখন অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই পরিচিত বিষয়। গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বাইরে গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ ও ডেটা নিয়ে কাজ করেও ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। বিশেষ করে মাইক্রোসফট এক্সেল ও এসপিএসএসের মতো সফটওয়্যার ব্যবহারে দক্ষতা থাকলে শিক্ষার্থীদের সামনে তৈরি হতে পারে বাড়তি আয়ের সুযোগ।
কী কাজ করতে হয়?
দেশি-বিদেশি গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়মিত নানা বিষয়ে জরিপ পরিচালনা করে। এসব জরিপ থেকে পাওয়া বিপুল পরিমাণ তথ্য গোছানো, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্লেষণ করে ফলাফল বের করার কাজ করেন ডেটা অ্যানালিস্ট বা গবেষণা বিশ্লেষকরা।
ধরা যাক, তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও গণমাধ্যম ব্যবহারের ওপর ৫০০ শিক্ষার্থীর একটি জরিপ করা হয়েছে। জরিপের পর পাওয়া কাঁচা তথ্য সাধারণভাবে দেখলে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ফলাফল বের করা কঠিন। একজন ডেটা অ্যানালিস্ট সেই তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে সাজিয়ে বিশ্লেষণ করেন। এরপর কত শতাংশ শিক্ষার্থী কোন ধরনের সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করেন, তাদের বয়স বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এই ব্যবহারের কী সম্পর্ক রয়েছে, এমন বিভিন্ন তথ্য বের করে একটি সহজবোধ্য প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
কোন দক্ষতা প্রয়োজন?
এই কাজের জন্য মাইক্রোসফট এক্সেল ও এসপিএসএসের ব্যবহার জানা গুরুত্বপূর্ণ। এক্সেলের মাধ্যমে তথ্য সাজানো, ভুল তথ্য সংশোধন, ডেটা পরিষ্কার করা এবং প্রাথমিক হিসাবের কাজ করা যায়।
অন্যদিকে, এসপিএসএস ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ, ফ্রিকোয়েন্সি, ক্রস-ট্যাবুলেশনসহ গবেষণার প্রয়োজনীয় ফলাফল বের করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিস, গবেষণা বা ডেটা জার্নালিজমের কাজে যাঁরা এসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেছেন, তাঁরা সেই অভিজ্ঞতাকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজেও কাজে লাগাতে পারেন।
কোথায় পাওয়া যাবে কাজ?
আপওয়ার্ক, ফাইভার ও ফ্রিল্যান্সার ডটকমের মতো আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে ডেটা অ্যানালাইসিস, এসপিএসএস ও পরিমাণগত গবেষণার বিভিন্ন কাজ পাওয়া যায়। গবেষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণার ফলাফল তৈরি কিংবা থিসিসের তথ্য বিশ্লেষণের মতো কাজের চাহিদা রয়েছে।
তবে শুধু সফটওয়্যার চালাতে পারলেই হবে না। গবেষণার প্রশ্ন বুঝে সঠিক পদ্ধতিতে তথ্য বিশ্লেষণ করা এবং ফলাফল সহজভাবে উপস্থাপন করার দক্ষতাও প্রয়োজন।
যেভাবে শুরু করবেন
এই ক্ষেত্রে কাজ পাওয়ার জন্য একটি ভালো পোর্টফোলিও তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু নিজের দক্ষতার কথা বলার চেয়ে আগের কাজের নমুনা দেখাতে পারলে ক্লায়েন্টের আস্থা তৈরি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো জরিপ, গবেষণা বা ডেটা জার্নালিজমের অ্যাসাইনমেন্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি সুন্দর প্রতিবেদন তৈরি করা যেতে পারে। সেখানে কীভাবে কাঁচা তথ্য সাজানো হয়েছে, কী ধরনের বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং সেখান থেকে কী ফলাফল পাওয়া গেছে, তা দেখানো যেতে পারে। ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য থাকলে অবশ্যই তা বাদ দিয়ে পোর্টফোলিও তৈরি করতে হবে।
এর পাশাপাশি এক্সেল ও এসপিএসএসের পাশাপাশি পরিসংখ্যানের মৌলিক ধারণা, তথ্য উপস্থাপন এবং গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলে কাজের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।
আয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি
পড়াশোনার পাশাপাশি ডেটা বিশ্লেষণের কাজ শুধু বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে না, ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারেও কাজে আসে। ডেটা জার্নালিজম, বাজার গবেষণা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিংবা করপোরেট ডেটা বিশ্লেষণের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই দক্ষতার ব্যবহার রয়েছে।
যাঁরা তথ্য নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন এবং গবেষণা বা পরিসংখ্যানের প্রতি আগ্রহী, তাঁদের জন্য এক্সেল ও এসপিএসএস শেখা হতে পারে ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার তৈরির একটি কার্যকর পদক্ষেপ।