বিমানের এমডি ও সিইও বলেছেন, ‘যাত্রীসাধারণের আস্থা অর্জনে আমরা প্রাণান্তকর পরিশ্রম করে চলেছি। আমরা জানি ও বিশ্বাস করি, তারাই সবকিছু। তাদের প্রয়োজনেই আমাদের জন্ম ও স্থিতি। যাত্রীদের ভ্রমণ আরও আরামদায়ক ও আনন্দময় করতে বিমান বহরে আজ অভিষেক হচ্ছে আকাশবীণার। এই উড়োজাহাজ সংযোজন আমাদের বহরকে আরও শক্তিশালী করবে।’
এএম মোসাদ্দিক আহমেদের কথায়, ‘২০০৮ সালে বোয়িং ও বিমানের মধ্যে ১০টি নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তিস্বাক্ষরের সময় থেকে আমরা আজকের দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছি। যদিও চুক্তিবদ্ধ ১০টি উড়োজাহাজের মধ্যে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজ ও ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ইতোমধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে। তবে আকাশবীণার ব্যাপারটা পুরোপুরি আলাদা। বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের রেঞ্জ, আসন সংখ্যা, সাশ্রয়ী পরিচালন ব্যয় ও যাত্রীদের দৃষ্টিকোণ থেকে ভ্রমণের স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনায় এই উড়োজাহাজ বিমান বহরে সংযোজনের ফলে আমাদের যাত্রী সেবায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।’
বিমানের সিইও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে বিমানের জন্ম। তারল্য সংকট, উচ্চ পরিচালন ব্যয় ও পুরনো উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে পরবর্তী ৪০টি বছর অতিক্রম করে বিমান। তবে ২০১১ সালে বহরে প্রথম বোয়িং ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে এই অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। তিনি জানান, বোয়িং ৭৭৭-৩০০ আসার আগে বিমান বহরে মোট ৮টি উড়োজাহাজের গড় বয়স ছিল ২০ বছরের বেশি। নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ বহরে যোগ দেওয়ার পর ক্রমান্বয়ে অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। এ বছরের নভেম্বরে বিমান বহরে দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ যুক্ত হলে লিজে সংগৃহীত এয়ারক্রাফটসহ বিমানের ১৩টি উড়োজাহাজের গড় বয়স দাঁড়াবে ৭ বছরের কম। আর বিমানের নিজস্ব ৮টি উড়োজাহাজের গড় বয়স দাঁড়াবে ৩.৭ বছর।
বহর পরিকল্পনার কাজ অব্যাহত না রাখলে বিমানকে আবারও ২০১১’র আগের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে বলে মন্তব্য প্রতিষ্ঠানটির এমডি’র। তার বক্তব্য, ‘দেখতে দেখতে আমাদের প্রথম দুটি ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজের বয়স ৭ বছর পেরিয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের বহর পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছি। শিগগিরই তা চূড়ান্ত হবে। বোয়িং কোম্পানি থেকে উড়োজাহাজ ক্রয়ের বাইরেও আমরা একটি ড্যাশ৮কিউ৪০০ ও দুটি ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ লিজ গ্রহণের কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছি। এ মাসের মাঝামাঝি চুক্তিবদ্ধ একটি ড্যাশ৮ উড়োজাহাজ ও ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ লিজে সংগৃহীত আরও দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ যুক্ত হবে বহরে।’
মোসাদ্দিক আহমেদের দাবি, ‘বাণিজ্যিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি বিমান হলো বাংলাদেশে একমাত্র গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট। আমরা বিমানের ফ্লাইটের পাশাপাশি বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনাকারী সব বৈদেশিক বিমান সংস্থার ফ্লাইটগুলোকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদান করে থাকি। এই খাতে নানাবিধ সীমাবদ্ধতা আছে। তবে আমরা ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছি। গত একবছরে এই খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা ৬৯টি নতুন গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করেছি। এছাড়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মানোন্নয়নে বিমানবন্দরে সাত শতাধিক নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, সচিব মহিবুল হক, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) ইনামুল বারী, বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) মোমিনুল ইসলাম, পরিচালক (গ্রাহক সেবা) আলী আহসান, মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ, সিবিএ সভাপতি মশিকুর রহমান প্রমুখ।