কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যগুলোতে কম খরচে ভ্রমণের জন্য কোন দিনগুলো সবচেয়ে সেরা, টিকিটের মূল্য তুলনাকারী ওয়েবসাইট কায়াকের নতুন এক গবেষণায় তা উঠে এসেছে। এসব দিনে যাতায়াত করলে অনেক টাকা বেঁচে যায়। তবে অন্য যাত্রীদের মধ্যে চাহিদা কম থাকে এমন দিন বেছে নিতে হবে।
স্পেনের মাইওরকা দ্বীপ অসংখ্য পর্যটকদের পছন্দের জায়গা। ব্রিটেন থেকে সেখানে বছরের ২৬ মে গেলে লাগবে ৩০৭ পাউন্ড (৩৩ হাজার টাকা)। ব্রিটেন থেকে একই জায়গায় ১১ জানুয়ারি রওনা দিলে টিকিট কেনা যায় মাত্র ১৮ পাউন্ডে (২ হাজার টাকা)। অর্থাৎ ৮১ শতাংশ কম! এই গন্তব্যে বছরের গড় ভাড়া ৯৭ পাউন্ড (সাড়ে ১০ হাজার টাকা)।
একই চিত্র আইসল্যান্ডের রাজধানী রেজাভিকের বেলায়। ব্রিটেন থেকে ১৪ এপ্রিল সেখানে যাওয়ার ফ্লাইটের ভাড়া ৩৮ পাউন্ড (৪ হাজার টাকা), যেখানে বছরের অন্যান্য দিনে গড় ভাড়া ১২১ পাউন্ড (১৩ হাজার টাকা)। এই গন্তব্যে যেতে ৫ আগস্ট সবচেয়ে বেশি ২৭০ পাউন্ড (২৯ হাজার টাকা) ভাড়া পড়ে, যা বার্ষিক গড় ভাড়ার চেয়ে ১৩১ শতাংশ বেশি।
কায়াক-এর গবেষণা বলছে, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ফ্লাইটে চড়লে খরচ আরও কমে। যেমন, ব্রিটিশ ভ্রমণকারীদের প্রিয় আন্তর্জাতিক গন্তব্য নিউ ইয়র্কে যেতে ১১ জানুয়ারি লাগে ১৪১ পাউন্ড (১৫ হাজার টাকা), যেখানে বছরের গড় ভাড়া ৩৯১ পাউন্ড (৪২ হাজার টাকা)। এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল দিন হলো ২৯ জুলাই। ওইদিন ব্রিটেন থেকে নিউ ইয়র্কে যাওয়ার ফ্লাইট ভাড়া ৬৩২ পাউন্ড (সাড়ে ৬৮ হাজার টাকা), অর্থাৎ পাঁচ গুণ বেশি!
কিছু ফ্লাইটে বছরের সবচেয়ে সস্তা দিনের সঙ্গে ব্যয়বহুল দিনের ভাড়ার পার্থক্য ৯০০ পাউন্ডের কাছাকাছি! যেমন, ৯ মে ব্রিটেন থেকে সিডনি যাওয়ার গড় ভাড়া ৪৩৫ পাউন্ড (৪৭ হাজার টাকা)। একই গন্তব্যের ভাড়া গত বছর বড়দিনের আগে ১৯ ডিসেম্বর ছিল আকাশচুম্বী— ১ হাজার ৩১৩ পাউন্ড (১ লাখ ৪২ হাজার টাকা)!
জনপ্রিয় অনেক গন্তব্যে তারিখ দেখে বেড়াতে গেলে ৫০০ পাউন্ডেরও বেশি বাঁচানো সম্ভব। যেমন, গত বছর ব্রিটেন থেকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আকাশপথে গড় ভাড়া ছিল ৫০০ পাউন্ড (৫৪ হাজার টাকা)। তবে ৩০ অক্টোবর তা নেমে আসে ৩০১ পাউন্ডে (সাড়ে ৩২ হাজার টাকা)। আবার ২৮ জুলাই তরতর করে বেড়ে হয় ১ হাজার ৭১ পাউন্ড (১ লাখ ১৬ হাজার টাকা)!
কায়াক ইউরোপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জন-লি সায়েজ বলেছেন, ‘অফ সিজনে ভ্রমণ সস্তা হয়, এটা সবাই জানে। কিন্তু আমাদের ডেটা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে দিন বদলালেই পাওয়া যায় বিশাল পার্থক্য। কোনও ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গন্তব্যে কয়েক সপ্তাহ আগেপিছে যাওয়া সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সবচেয়ে সস্তা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আবহাওয়ার চেয়ে দিন-তারিখকে যারা ভ্রমণের জন্য প্রাধান্য দেয়, তাদের খরচ অনেক কম হয়। এই পন্থাই কম খরচে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘোরার জন্য সহায়ক।’
কায়াক-এর মতো অনলাইনে বেশকিছু ওয়েবসাইট রয়েছে। এগুলোতে কয়েকটি টুলসের মাধ্যমে ভ্রমণকারীদের জন্য যাতায়াতের সেরা সময় উল্লেখ করা হয়। কখন বেশি সস্তা আর কখন ব্যয়বহুল তা জানতে এসব ওয়েবসাইট জুতসই। এর মধ্যে সম্প্রতি সেরা হয়েছে নেটফ্লাইটস ডটকম।
সূত্র: সানডে এক্সপ্রেস