৪০ বছরেও এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থায় অগ্রগতি হয়নি: নভোএয়ারের এমডি

NOVOAIR Round Table Discussion‘৪০ বছর আগে দেশের এয়ার ট্রাফিক যা ছিল এখনও তেমনই আছে। কোনও অগ্রগতি হয়নি’— বলছিলেন নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমান। দেশের বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো, এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, যুগোপযোগী নিয়মকানুন না থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে মন্তব্য তার। তবে সমস্যা সমাধানে মানসিকতাই মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘রোল অব মিডিয়া, প্রমোটিং এয়ারলাইন সেফটি’ শীর্ষক আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মফিজুর রহমান।

নভোএয়ারের এমডি বলেন, ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের পার্কিং ও ট্যাক্সির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। সেফটির জন্য এগুলো প্রয়োজনীয়। এছাড়া রাজশাহী, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের রানওয়ে উঁচু-নিচু। বিমান উড্ডয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রতিবন্ধকতা। শাহজালাল বিমানবন্দরের রাডার পুরনো হয়ে গেছে। কোনও কোনও বিমানবন্দরের এয়ার নেভিগিয়েশন ব্যবস্থা অপ্রতুল। শাহজালালে পাখির আঘাতে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। পাখি তাড়াতে এখনও মান্ধাতার আমলের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কিন্তু সমস্যা সমাধানে আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব করে তোলার কথা বলা হয় প্রায়ই। কিন্তু এসব সমস্যার সমাধান না করতে পারলে তা স্বপ্নই থেকে যাবে, বাস্তবে রূপ নেবে না।’

মফিজুর রহমানের দাবি, ‘নভোএয়ার ফ্লাইট সেফটিকে গুরুত্ব দেয়। আমাদের কর্মীদের কেউ ছোট কোনও ভুল করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিছুদিন আগে তিনজন প্রকৌশলীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সারাবিশ্বে সেফটির জন্য যেসব ব্যবস্থা নেয় এয়ারলাইনসগুলো, আমরা এর বাইরে নই।’

অনুষ্ঠানে এয়ারলাইন সেফটি বিষয়ে বিভিন্ন দিক আলোকপাত করেন নভোএয়ারের চিফ অফ সেফটি ক্যাপ্টেন আশফাক-উর-রহমান খাঁন। আলোচনায় অংশ নেন নভোএয়ারের পরিচালক হাসিবুর রশিদসহ বেসরকারি এই বিমান সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

নভোএয়ার এটিআর ৭২-৫০০ মডেলের ছয়টি নিজস্ব উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, সিলেট, সৈয়দপুর, বরিশাল, রাজশাহী ও কলকাতা রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে।