বিমানে ফেলে আসা মানিব্যাগ ফিরে পেলেন যাত্রী

বিমানের নিরাপত্তাকর্মী মনিরুল ইসলাম ও যাত্রী সৈয়দ মাহবুব ইসলাম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ০৮৫ ফ্লাইটে চড়ে রবিবার (২৮ এপ্রিল) সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আসেন সৈয়দ মাহবুব ইসলাম নামের একজন যাত্রী। বাসায় ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে তাকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়, বিমানে তিনি মানিব্যাগ ফেলে এসেছেন। সেটি বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশের হেফাজতে আছে। মানিব্যাগে ছিল ১ হাজার মার্কিন ডলার ও ১ হাজার ৬০০ সিঙ্গাপুর ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৩১৮ টাকা।

জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিমানটি তল্লাশি করেন বিমানের নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় বিমানের নিরাপত্তাকর্মী মনিরুল ইসলাম একটি আসনের ওপর মানিব্যাগ দেখতে পান। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি জানান তিনি। পরবর্তী সময়ে মানিব্যাগ থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে যাত্রী সৈয়দ মাহবুব ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আর্মড পুলিশের কর্মকর্তারা। পরে তাকে মানিব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে সৈয়দ মাহবুব ইসলাম বলেন, ‘মা-বাবার চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছিলাম। বেশ টেনশনে ছিলাম। মানিব্যাগ কখন যে পড়ে গিয়েছিল টের পাইনি। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে পরে গ্যাস স্টেশনে যাওয়ার পর পকেটে হাত দিয়ে দেখি আমার মানিব্যাগ নেই। তখন ভাবলাম পরে বিমানবন্দরে গিয়ে খোঁজ নেবো। বাসায় যাওয়ার পরপরই আমার কাছে বিমানবন্দর থেকে ফোন এলো। এরপর মানিব্যাগটি ফেরত পেলাম। এ ঘটনায় আমি সত্যি অভিভূত। আমার মানিব্যাগে ১ হাজার ইউএস ডলার ও ১ হাজার ৬০০ সিঙ্গাপুর ডলার ছিল।’

সৈয়দ মাহবুব ইসলামকে মানিব্যাগ ফিরিয়ে দিচ্ছেন বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের একজন সদস্য

বিমানের নিরাপত্তাকর্মী মনিরুল ইসলাম ঘটনার বিবরণ দেন এভাবে, ‘বিমানে ওঠার পর সিটের ওপর একটি মানিব্যাগ পাই। পরে বিমান থেকে নামার পর এপিবিএন সদস্যদের জানাই, একটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। তখন এপিবিএন সদস্যরা জানান, তারা যাত্রীকে খুঁজে বের করে মানিব্যাগ ফেরত দেবেন। সেই অনুযায়ী তিনি মানিব্যাগটি ফেরত পেয়েছেন। বিমানে আমরা সবসময় যাত্রীরা কিছু ফেলে গেলে তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করি।’

যাত্রীদের কাছে যেকোনও কিছু হারানো গেলে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের কাছে জানানোর অনুরোধ করেছেন বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন্স অ্যান্ড মিডিয়া) মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বিমানবন্দরে যেকোনও কিছু হারানো গেলে ফেরত পাওয়া সম্ভব। আমরা সবসময় যাত্রীদের অভিযোগ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিই। কিন্তু অনেক সময় যাত্রীরা অভিযোগ জানান না, এ কারণে মালামাল ফেরত পাওয়া গেলেও তাদের কাছে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয় না।’