পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের মায়ায় উৎমাছড়া

পাহাড়ের পাদদেশে স্বচ্ছ জলধারা, চারপাশে ছড়িয়ে থাকা পাথর আর সবুজের আবরণ প্রকৃতির এমন নৈসর্গিক পরিবেশে গড়ে উঠেছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের উৎমাছড়া। সীমান্তঘেঁষা এই ছড়াটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পরিচিত একটি ভ্রমণস্থান।

উৎমাছড়ার চারপাশে দেখা যায় পাহাড়ি প্রকৃতির বৈচিত্র্য। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা পানির ধারা পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় তৈরি করে স্বচ্ছ ও শীতল জলপ্রবাহ। বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বাড়লে উৎমাছড়ার সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। শুধু বর্ষাই নয়, হেমন্তেও উৎমাছড়ার আলাদা রূপ দেখা যায়। পানি কমে গেলে পাথুরে ভূমি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাথরের ফাঁকে বয়ে চলা পানির কলকল শব্দ আর পাহাড়ি পরিবেশ তখন তৈরি করে শান্ত, নিরিবিলি এক আবহ।

উৎমাছড়া থেকে উপভোগ করা যায় ভারতের মেঘলয়ের পাহাড় (সংগৃহীত)অ

উৎমাছড়া ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ এর সীমান্তবর্তী অবস্থান ও পাহাড়ি দৃশ্য। এখান থেকে মেঘালয়ের পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করা যায়। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জায়গাটি বিছনাকান্দির তুলনামূলক নিরিবিলি বিকল্প হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।

সিলেট শহর থেকে উৎমাছড়ার পথে যেতে হয় কোম্পানীগঞ্জের দয়ারবাজার ও চরারবাজার হয়ে। চরারবাজার থেকে কিছুটা পথ হেঁটে পৌঁছানো যায় ছড়াটিতে। যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি পর্যটনবান্ধব না হওয়ায় ভ্রমণের আগে স্থানীয়দের কাছ থেকে পথ ও যাতায়াতের বর্তমান অবস্থা জেনে নেওয়া ভালো।

উৎমাছড়ায় পাথরের ফাঁকে বয়ে চলা পানি (সংগৃহীত)।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি উৎমাছড়ার পরিবেশ রক্ষাও জরুরি। পাথর, পানি ও পাহাড়ি প্রকৃতির এই ভারসাম্য নষ্ট না করে ভ্রমণকারীদের ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং স্থানীয় পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল থাকার পরামর্শ দেওয়া যায়।

সবুজ পাহাড়ের ছায়া, স্বচ্ছ পানির ধারা আর পাথুরে ছড়ার মায়াবী দৃশ্য সব মিলিয়ে উৎমাছড়া হতে পারে সিলেটের প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণের একটি অনন্য স্থান।