বিদেশ ভ্রমণে আনন্দের পাশাপাশি হঠাৎ নানা ধরনের বিপদেও পড়তে হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয়গুলোর একটি হলো পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হয়ে যাওয়া। কারণ বিদেশের মাটিতে পরিচয় ও ভ্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি হলো পাসপোর্ট। সেটি হারিয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে, এবার বুঝি দেশে ফেরাই অসম্ভব। তবে এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নিলে সমস্যা অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব।
ভ্রমণসংস্থার সঙ্গে বিদেশে গেলে প্রথমেই তাদের সহায়তা নিতে পারেন। একা ভ্রমণে গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানাতে পারেন। বিদেশে ভাষাগত সমস্যায় পড়লে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও হোটেলকর্মীরা অনেক সময় সহযোগিতা করতে পারেন।
পাসপোর্ট হারানোর পর প্রথম কাজ হওয়া উচিত স্থানীয় থানায় গিয়ে অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা। সেখানে পাসপোর্টের নম্বর ও নিজের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিতে পারলে ভালো। পুলিশের কাছ থেকে অভিযোগের লিখিত কপি অবশ্যই সংগ্রহ করে রাখুন। পরবর্তী সময়ে নতুন পাসপোর্ট বা জরুরি ভ্রমণ নথির জন্য আবেদন করার সময় এই কাগজটি প্রয়োজন হতে পারে।
এরপর দ্রুত যোগাযোগ করতে হবে যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানে নিজের দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে। দেশে ফেরার জরুরি প্রয়োজন থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে জরুরি ভ্রমণ নথি বা ‘ইমার্জেন্সি সার্টিফিকেট’ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে। এ জন্য সাধারণত পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত কিছু নথি প্রয়োজন হয়। দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকেই এ বিষয়ে সঠিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে।
যদি বিদেশে আরও কিছুদিন থাকার প্রয়োজন হয়, তাহলে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হতে পারে। অন্যদিকে দ্রুত দেশে ফেরার প্রয়োজন হলে জরুরি সার্টিফিকেটের বিষয়ে দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তবে কোন কোন নথি লাগবে এবং কত সময় লাগবে, তা দেশ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
হারানো পাসপোর্টে যদি সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ ভিসা থাকে, তাহলে ভিসার বিষয়টিও আলাদাভাবে সামলাতে হবে। পাসপোর্ট হারানোর পুলিশ রিপোর্ট, নতুন পাসপোর্ট বা জরুরি ভ্রমণ নথি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও দূতাবাস বা স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
তবে বিপদে পড়ার আগেই কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে পরিস্থিতি অনেক সহজে সামলানো যায়। বিদেশে যাওয়ার আগে পাসপোর্টের প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠার কয়েকটি কপি, প্রয়োজনীয় ভিসার কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং পরিচয়পত্রের কপি আলাদা করে রাখুন। এগুলো মূল নথির সঙ্গে না রেখে অন্য ব্যাগে বা নিরাপদ ডিজিটাল জায়গায় সংরক্ষণ করতে পারেন। সফরের আগে যে দেশে যাচ্ছেন, সেখানে নিজের দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যোগাযোগের নম্বরও সংগ্রহ করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
ফেরার এক-দুই দিন আগে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে সময়ের চাপ আরও বাড়তে পারে। জরুরি ভ্রমণ নথি পেতে সময় লাগলে বিমানসংস্থার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে টিকিটের তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে কথা বলুন। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলে তারা নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স থাকলে পাসপোর্ট হারানোর বিষয়টি বিমা প্রতিষ্ঠানকেও জানান। এ ক্ষেত্রে বিমার শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি ও পুলিশের অভিযোগের কপি জমা দিতে হবে। এতে হারানো নথি পুনরুদ্ধার বা জরুরি সহায়তার ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে।
বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে বড় ঝামেলার বিষয়। কিন্তু তাই বলে দেশে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায় না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে স্থানীয় পুলিশ, দূতাবাস বা কনস্যুলেট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আতঙ্কিত না হয়ে মাথা ঠান্ডা রাখা।