ইটের গায়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ, পুরোনো প্রাসাদের স্থাপত্য আর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা মন্দির, রাজশাহীর পুঠিয়ায় গেলে মনে হবে যেন বাংলার ইতিহাসের একটি অধ্যায়ে ঢুকে পড়েছেন। প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত পুঠিয়া রাজবাড়ি শুধু একটি পুরোনো প্রাসাদ নয়, রাজশাহীর অন্যতম আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক স্থান।
রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে পুঠিয়া উপজেলা। এই এলাকায় একসঙ্গে রাজবাড়ি, মন্দির, দিঘি ও প্রাচীন স্থাপনার দেখা মেলে। ফলে এক জায়গায় ঘুরেই বাংলার জমিদারি আমলের স্থাপত্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতির নানা নিদর্শন দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।
পুঠিয়া রাজবাড়ি স্থানীয়ভাবে পুঠিয়া রাজবাড়ি বা পাঁচআনি রাজবাড়ি নামেও পরিচিত। বড় পরিসরের প্রাসাদ, উঁচু স্তম্ভ, খিলান ও নকশা করা দেয়াল এর স্থাপত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাজবাড়ির আশপাশের পুরোনো স্থাপনাগুলোও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
মন্দিরে মন্দিরে স্থাপত্যের গল্প
পুঠিয়ায় শুধু রাজবাড়ি দেখেই ফিরে আসার সুযোগ নেই। কাছাকাছি রয়েছে শিব মন্দির, গোবিন্দ মন্দির, জগন্নাথ মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। বিশেষ করে গোবিন্দ মন্দিরের পোড়ামাটির ফলকে ফুটে ওঠা নানা নকশা ও দৃশ্য বাংলার টেরাকোটা শিল্পের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের পরিচয় দেয়।
রাজবাড়ির পাশের জলাশয় ও সবুজ পরিবেশ জায়গাটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে। তাই ইতিহাসের পাশাপাশি ছবি তুলতে ও নিরিবিলি সময় কাটাতেও পুঠিয়া বেশ উপযোগী।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে রাজশাহী শহরে গিয়ে সেখান থেকে সড়কপথে পুঠিয়ায় যাওয়া যায়। রাজশাহী শহর থেকে বাস, সিএনজি বা অটোরিকশায় সহজেই পুঠিয়া পৌঁছানো সম্ভব। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে একই দিনে পুঠিয়ার পাশাপাশি রাজশাহীর অন্য দর্শনীয় স্থানও ঘুরে দেখা যায়।
ভ্রমণের আগে স্থানীয়ভাবে দর্শনীয় স্থানগুলোর খোলার সময় ও প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো। পুরোনো স্থাপনায় ঘোরার সময় দেয়াল বা কারুকাজে হাত না দেওয়া এবং প্রত্নসম্পদের ক্ষতি হয় এমন কোনও কাজ না করাও জরুরি।
রাজশাহীতে গেলে তাই শুধু আম বা পদ্মার সৌন্দর্য নয়, একদিন সময় বের করে পুঠিয়ার ইতিহাসের পথেও হাঁটতে পারেন। রাজবাড়ি, মন্দির আর টেরাকোটার কারুকাজ দেখতে চাইলে পুঠিয়া হতে পারে ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক ভ্রমণ ঠিকানা।