দক্ষিণ নরওয়ের জোটুনহেইমেন ন্যাশনাল পার্কের প্রান্তে অবস্থিত রয়শেইম যেন সময়ের এক জীবন্ত স্মারক। গ্রীষ্মকালে এখানে রাত ১১টা পর্যন্ত সূর্যের আলো থাকে। ফলে প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য দিনের দীর্ঘ সময়জুড়ে পাহাড়, হিমবাহ ও হ্রদ ঘুরে দেখার সুযোগ মেলে।
রয়শেইম থেকে গ্রীষ্মের বিভিন্ন সময়ে করা যায় নীল বরফের হিমবাহে হাঁটা, পাহাড়ি হ্রদে সাঁতার এবং সোগনেফিয়েলেট পাস ধরে সাইক্লিং। চাইলে ওঠা যায় নরওয়ের সর্বোচ্চ পর্বত গালধোপিগেন-এ, যার উচ্চতা ২ হাজার ৪৬৯ মিটার (৮ হাজার ১০০ ফুট)।
গালধোপিগেনে প্রথম নথিভুক্ত আরোহণও হয়েছিল ১৮৫০ সালে রয়শেইম থেকে। সেই ঐতিহাসিক পথের অংশ এখনো হোটেলের আঙিনা থেকে শুরু হয়। যদিও বর্তমানে বেশিরভাগ পর্বতারোহী কাছের স্পিটারস্টুলেন থেকে তুলনামূলক দ্রুত ও সহজ পথে পাহাড়ে ওঠেন।
তবে রয়শেইমের আসল আকর্ষণ শুধু এর অবস্থান নয়, বরং এর ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও পরিবেশ। ঘাসে ঢাকা ছাদযুক্ত এই হোটেলটি ১৮৫৮ সাল থেকে পাহাড়প্রেমীদের আতিথ্য দিয়ে আসছে।
ভেতরে ঢুকলে আধুনিক হোটেলের বদলে যেন ফিরে যাওয়া যায় বহু বছর আগের নরওয়েতে। অনেক কক্ষের পুরোনো সাজসজ্জা এখনো যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। রয়েছে কাঠের দেয়াল, খোদাই করা কাঠের খাট এবং ব্যারেলের মতো আকৃতির বাথটাব।
প্রকৃতি, ইতিহাস ও নীরব পাহাড়ি পরিবেশ—সব মিলিয়ে রয়শেইম হতে পারে এমন ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ, যারা শুধু বিলাসবহুল থাকার জায়গা নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ও প্রকৃতিনির্ভর অভিজ্ঞতা খুঁজছেন।
থাকার খরচ: সকালের নাশতাসহ দুইজনের জন্য প্রতি রাত ২৪৩ পাউন্ড থেকে।