বিমানযাত্রা অনেকের কাছেই আরামদায়ক ও দ্রুত ভ্রমণের মাধ্যম। তবে যাদের হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় আকাশপথে ভ্রমণের আগে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। মাটিতে স্বাভাবিক বোধ করলেও উড়ানের পরিবেশ, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কিংবা শারীরিক চাপের কারণে কারও কারও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
তাই হার্টের রোগ থাকলে টিকিট কাটার আগে শুধু গন্তব্য ও ভাড়ার হিসাব নয়, নিজের শারীরিক অবস্থার সঙ্গে বিমানযাত্রা কতটা নিরাপদ, সেটিও বিবেচনা করা জরুরি।
বিমানের কেবিনের পরিবেশ মাটির তুলনায় আলাদা। দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া কমে যায়। পাশাপাশি ভ্রমণের চাপ, ঘুমের ঘাটতি, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য শারীরিক পরিস্থিতিও অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
যাদের হৃদ্যন্ত্র আগে থেকেই দুর্বল, তাদের শরীরের পক্ষে এসব পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। তাই বিশেষ করে দীর্ঘ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে আগাম পরিকল্পনা জরুরি।
সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক, হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার, স্টেন্ট বা বাইপাসের মতো চিকিৎসা হয়ে থাকলে নিজের সিদ্ধান্তে বিমানে ভ্রমণের পরিকল্পনা না করাই ভালো। কখন বিমানযাত্রা করা নিরাপদ হবে, তা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে। তাই ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।
বিমানযাত্রার সময় শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা চাপ অনুভব, অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন, মাথা ঘোরা কিংবা হঠাৎ দুর্বল লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।
এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কেবিন ক্রুকে জানান। প্রয়োজনে তারা জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করতে পারবেন।
নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হলে সেগুলো কখনোই শুধু চেক-ইন লাগেজে রাখবেন না। প্রয়োজনীয় ওষুধ হাতের ব্যাগে রাখুন, যাতে বিমানের কেবিন থেকেই প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা যায়।
চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সঙ্গে রাখাও কাজে আসতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ভ্রমণে।
দীর্ঘ বিমানযাত্রায় পর্যাপ্ত পানি পান করার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত চা, কফি কিংবা অ্যালকোহলের বদলে পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো।
শরীরে পানির ঘাটতি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তবে কোনো নির্দিষ্ট হৃদ্রোগের কারণে চিকিৎসক যদি তরল গ্রহণে সীমাবদ্ধতা দিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তাঁর পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।
দীর্ঘ ফ্লাইটে সম্ভব হলে নিরাপদ সময়ে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। আসনে বসে পা ও গোড়ালির হালকা নড়াচড়াও করতে পারেন। তবে সিটবেল্ট বাঁধার নির্দেশনা বা অন্য কোনো নিরাপত্তা নির্দেশ থাকলে তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
হার্টের সমস্যা থাকলেই যে বিমানে ভ্রমণ করা যাবে না, এমন নয়। তবে কারও জন্য বিমানযাত্রা নিরাপদ হলেও অন্য কারও ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
তাই ভ্রমণের আগে চিকিৎসককে গন্তব্য, ফ্লাইটের সময়কাল এবং নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা জানান। প্রয়োজন হলে কী কী ওষুধ, নথি বা চিকিৎসা-সহায়ক সামগ্রী সঙ্গে রাখতে হবে, সেটিও জেনে নিন।
হৃদ্রোগীদের জন্য বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আতঙ্কিত না হয়ে প্রস্তুতি নেওয়া। নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং যাত্রার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ এসব সতর্কতা ভ্রমণকে অনেক বেশি নিশ্চিন্ত করতে পারে।
গন্তব্য যতই আকর্ষণীয় হোক, স্বাস্থ্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। তাই হার্টের সমস্যা থাকলে আকাশপথে যাত্রার আগে পরিকল্পনাই হোক প্রথম পদক্ষেপ।