আকাশপথে দীর্ঘ যাত্রা, স্বস্তির আসন বাছবেন কীভাবে

দুই-তিন ঘণ্টার বিমানযাত্রা সহজেই কেটে যায়। কিন্তু ১০-১২ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইটে একই আসনে বসে থাকা অনেকের কাছেই ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে ঘাড়, কাঁধ, কোমর ও পায়ে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তার সঙ্গে যোগ হয় ঘুমের ব্যাঘাত ও একঘেয়েমি।

তাই দীর্ঘ বিমানযাত্রার আগে টিকিট বুক করার সময় শুধু ভাড়া বা জানালার দৃশ্য নয়, কোন আসনে বসলে বেশি স্বস্তি পাবেন, সেটিও বিবেচনায় রাখা ভালো।

দীর্ঘ ফ্লাইটে আরামের জন্য আইলের পাশের আসন বেশ সুবিধাজনক হতে পারে। প্রয়োজন হলে সহজেই উঠে দাঁড়ানো যায় এবং মাঝেমধ্যে একটু হাঁটাহাঁটি করার সুযোগ পাওয়া যায়।

বিশেষ করে যাঁদের দীর্ঘ সময় একই জায়গায় বসে থাকতে অস্বস্তি হয়, তাঁদের জন্য আইল সিট কার্যকর। জানালার পাশে বসে দৃশ্য উপভোগ করার সুবিধা থাকলেও নড়াচড়ার সুযোগ তুলনামূলক কম।

বিমানের জরুরি নির্গমন দরজার কাছের কিছু আসনে সাধারণ আসনের তুলনায় পায়ের জন্য বেশি জায়গা থাকতে পারে। লম্বা যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত জায়গা দীর্ঘ সফরে স্বস্তি দিতে পারে।

তবে এসব আসনের ক্ষেত্রে বিমান সংস্থার নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নিরাপত্তাবিধি থাকতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে ক্রুদের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যাত্রীর থাকা প্রয়োজন। তাই বুকিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার নিয়ম জেনে নিন।

বিমানের শেষ সারির আসন অনেক সময় যাত্রীদের কাছে কম সুবিধাজনক মনে হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ ফ্লাইটে টয়লেট বা গ্যালির কাছাকাছি হওয়ায় যাত্রীদের চলাচল ও শব্দে বিরক্তি তৈরি হতে পারে।

তাই আগে টিকিট কাটার সুযোগ থাকলে বিমানের আসনের মানচিত্র দেখে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী জায়গা নির্বাচন করুন।

দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীরের জড়তা বাড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে কিছুক্ষণ পরপর আসনে বসেই পা, গোড়ালি, হাত ও কাঁধের হালকা নড়াচড়া করুন। সিটবেল্ট খুলে চলাফেরার অনুমতি থাকলে নিরাপদ সময়ে উঠে কয়েক মিনিট হাঁটতেও পারেন।

তবে কখন উঠে দাঁড়ানো যাবে, সে বিষয়ে সবসময় কেবিন ক্রুদের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।

দীর্ঘ ফ্লাইটে ঘুমিয়ে নেওয়া গেলে ক্লান্তি অনেকটাই কমে। ঘাড়কে আরাম দিতে একটি ভালো মানের নেক পিলো সঙ্গে রাখতে পারেন। আলো ও শব্দে সমস্যা হলে আই মাস্ক বা নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোনও কাজে লাগতে পারে।

তবে বিমানে ঘুমানোর সময়ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখুন এবং ক্রুদের নির্দেশনা মেনে চলুন।

দীর্ঘ ফ্লাইটে পর্যাপ্ত তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস করুন। অতিরিক্ত চা-কফি বা মিষ্টি পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে পানিকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন।

দীর্ঘ বিমানযাত্রার আরাম অনেকটাই নির্ভর করে আগাম প্রস্তুতির ওপর। তাই টিকিট বুকিংয়ের সময় বিমানের সিট ম্যাপ দেখে নিন। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আইল সিট, অতিরিক্ত লেগরুমের আসন কিংবা তুলনামূলক শান্ত জায়গা বেছে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, একটানা বসে না থেকে শরীরকে সচল রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে মানানসই আসন বেছে নেওয়া। তাহলেই দীর্ঘ আকাশযাত্রা হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি আরামদায়ক।