বালি ভ্রমণের স্বপ্ন অনেকেরই। তবে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে গিয়ে ফ্লাইট, হোটেল, খাবার, স্থানীয় যাতায়াত ও দর্শনীয় স্থান ঘোরার ব্যবস্থা নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হয়। এবার এসবের অনেকটাই একসঙ্গে মিলছে ভারতের একটি ট্যুর প্যাকেজে। তবে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য এতে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্যাকেজটির শুরু ও শেষ দুটিই ভারতের হায়দরাবাদ থেকে।
ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম করপোরেশন (আইআরসিটিসি) ‘বালি প্যারাডাইস এক্স-হায়দরাবাদ’ নামে চার রাত ও পাঁচ দিনের এই প্যাকেজটি আয়োজন করেছে। ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের রুটে থাকবে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে সংযোগ।
তিনজনের শেয়ারিংয়ে জনপ্রতি প্যাকেজের খরচ শুরু হচ্ছে ৯৫ হাজার ৫০০ রুপি থেকে। দুজনের শেয়ারিংয়ে জনপ্রতি খরচ ৯৫ হাজার ৯০০ রুপি। আর একক কক্ষে থাকতে চাইলে দিতে হবে ১ লাখ ১ হাজার ৬০০ রুপি।
২ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের জন্যও রয়েছে আলাদা মূল্য। বিছানাসহ শিশুর প্যাকেজের দাম ৮৯ হাজার ৫০ রুপি এবং বিছানা ছাড়া ৮৫ হাজার ৫০০ রুপি।
তবে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দামের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হায়দরাবাদে পৌঁছানোর খরচ নেই। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করলে ঢাকার সঙ্গে হায়দরাবাদের যাতায়াত, প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি ও অন্যান্য অতিরিক্ত খরচ আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে। তাই শুধু প্যাকেজের মূল্য দেখেই মোট ভ্রমণ ব্যয় ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
কী থাকছে প্যাকেজে?
প্যাকেজের আওতায় থাকছে আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রা, তিন তারকা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা, খাবার, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘোরানো, স্থানীয় যাতায়াত ও ভ্রমণবিমা। ভারতীয় পাসপোর্টধারী সর্বোচ্চ ৮০ বছর বয়সী পর্যটকদের জন্য ভ্রমণবিমার সুবিধাও রাখা হয়েছে, তবে তা নির্দিষ্ট শর্তের আওতাধীন।
ভ্রমণ শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে। সেদিন রাত ৮টার মধ্যে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হবে। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে ফ্লাইট ছাড়ার কথা রয়েছে।
বালিতে পৌঁছানোর পর প্রথম দিন হোটেলে যাওয়ার পর দুপুরের খাবার এবং জিমবারান বিচ ভ্রমণের আয়োজন রয়েছে। দিন শেষে থাকছে ভারতীয় খাবারের ব্যবস্থা।
দ্বিতীয় দিনটি রাখা হয়েছে বালির সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও ঐতিহ্য দেখার জন্য। এদিন পর্যটকেরা কিন্তামানি ও উবুদ এলাকায় যাবেন। দেখা যাবে বারং ও কেরিস নৃত্য পরিবেশনা। পাশাপাশি রুপার গয়নার জন্য পরিচিত সেলুক এবং কাঠের কারুশিল্পের জন্য পরিচিত মাস এলাকাও ঘোরানো হবে।
প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগও থাকছে। সূচিতে রয়েছে মাউন্ট বাতুর ও লেক বাতুরের দৃশ্য। এর সঙ্গে রয়েছে স্যাক্রেড মাঙ্কি স্যাংচুয়ারি এবং তির্তা এমপুল মন্দির ভ্রমণ।
তৃতীয় দিনে ভ্রমণসূচিতে প্রাধান্য পাচ্ছে সমুদ্র আর রোমাঞ্চ। তানজুং বেনোয়া বিচে গিয়ে পর্যটকেরা বানানা বোট ও কাচের তলার নৌকায় চড়ার সুযোগ পাবেন। এরপর রয়েছে টার্টল আইল্যান্ড ভ্রমণ। দিনের শেষে উলুওয়াতু মন্দিরে কেচাক নৃত্য পরিবেশনা দেখার আয়োজন রয়েছে।
চতুর্থ দিনে রয়েছে বালির বিখ্যাত কয়েকটি মন্দির। পর্যটকেরা যাবেন তামান আয়ুন মন্দির, উলুন দানু ব্রাতান মন্দির ও তানাহ লট মন্দিরে। ভ্রমণসূচিতে বিভিন্ন স্থানে সূর্যাস্ত দেখার সুযোগও রাখা হয়েছে।
খাবার ও যাতায়াতের ব্যবস্থাও একসঙ্গে
প্যাকেজে থাকছে চারটি সকালের নাশতা, পাঁচটি দুপুরের খাবার ও চারটি রাতের খাবার। প্রতিদিন জনপ্রতি ৫০০ মিলিলিটারের দুটি পানির বোতলও দেওয়া হবে।
বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘোরানো ও স্থানীয় যাতায়াতের জন্য থাকবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডিলাক্স কোচ। সফরে পর্যটকদের সঙ্গে থাকবেন ইংরেজিভাষী গাইড।
তবে প্যাকেজের বাইরে কিছু খরচ পর্যটকদের নিজেদের বহন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে টিপস, ব্যক্তিগত খরচ, অতিরিক্ত খাবার, বিমানবন্দরের কর, জ্বালানি সারচার্জ বেড়ে গেলে অতিরিক্ত অর্থ এবং প্যাকেজে উল্লেখ না থাকা অন্যান্য পরিষেবার খরচ।
বাংলাদেশিদের জন্য কতটা সুবিধাজনক?
বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে এই প্যাকেজটি সরাসরি বুকিংয়ের বিকল্পের চেয়ে বরং তুলনা করার মতো একটি ভ্রমণ-সুযোগ হিসেবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যাত্রার শুরু হায়দরাবাদ থেকে হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে আগে ভারতে পৌঁছাতে হবে। সেই যাত্রার খরচ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা যোগ করলে মোট ব্যয় ৯৫ হাজার ৫০০ রুপির চেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে।
তবে কেউ যদি ভারত থেকে ভ্রমণ শুরু করার পরিকল্পনা করেন বা হায়দরাবাদে অবস্থান করেন, তার জন্য এই প্যাকেজটি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে। বিশেষ করে ফ্লাইট, হোটেল, খাবার, স্থানীয় পরিবহন ও দর্শনীয় স্থান ঘোরার মতো বিষয়গুলো একসঙ্গে থাকায় আলাদা করে পরিকল্পনার ঝামেলা কমে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য তাই এই প্যাকেজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শুধু দাম নয়, বরং পাঁচ দিনের মধ্যে বালির সমুদ্রসৈকত, মন্দির, পাহাড়, সংস্কৃতি ও বিনোদনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশ থেকে হায়দরাবাদ যাওয়া-আসার খরচ এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথির বিষয়টি হিসাব করে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র: এনডিটিভি