জাপান ভ্রমণে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান ঘোরার পাশাপাশি দেশটির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জীবনযাপন কাছ থেকে দেখার সুযোগও রয়েছে। আর দেশটির সংস্কৃতি, স্থাপত্য ও মানুষের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপন কাছ থেকে অনুভব করতে চাইলে থাকার জায়গাটিও হতে পারে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।
হোটেলের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী জাপানি বাড়ি ‘মাচিয়া’তে থাকার অভিজ্ঞতা নিতে পারেন ভ্রমণপ্রেমীরা। কাঠের তৈরি এসব ঐতিহ্যবাহী বাড়ি জাপানের স্থাপত্য ও জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে থাকার মাধ্যমে পর্যটকরা দেশটির সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।
ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা জুটি কায়জাল ও শচীন সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে মাচিয়ার বৈশিষ্ট্য ও সেখানে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। ভিডিওতে কায়জাল ভ্রমণকারীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনি যদি জাপানে আসেন, তাহলে হোটেল বুক করবেন না। বরং একটি মাচিয়া বুক করুন।”
কেমন এই মাচিয়া?
কায়জালের ভাষ্য অনুযায়ী, মাচিয়া হলো জাপানের ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি বাড়ি, যেখানে সাধারণত দুইটি তলা থাকে। এসব বাড়িতে স্লাইডিং দরজাসহ ঐতিহ্যবাহী কক্ষ, তাতামি মেঝে এবং অনেক ক্ষেত্রে সুন্দর বাগানও দেখা যায়।
মাচিয়ায় থাকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এখানে পর্যটকরা শুধু একটি কক্ষে রাত কাটান না; বরং জাপানি জীবনযাপনের একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান। ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, ঘরের সাজসজ্জা ও পরিবেশ মিলিয়ে থাকার অভিজ্ঞতাটিও হয়ে ওঠে ভ্রমণের অংশ।
কায়জাল আরও জানান, পরিবার বা দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করলে মাচিয়া অনেক সময় একাধিক হোটেল কক্ষ নেওয়ার তুলনায় সাশ্রয়ী হতে পারে।
কোথায় পাওয়া যায়?
কিয়োটো, কানাজাওয়া ও তাকায়ামার মতো জাপানের বিভিন্ন শহরে ঐতিহ্যবাহী মাচিয়া খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে যারা জাপানের পুরোনো স্থাপত্য ও স্থানীয় সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখতে চান, তাদের জন্য এ ধরনের আবাসন আকর্ষণীয় হতে পারে।
মাচিয়ায় তাতামি কক্ষ, ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকার কারণে পরিবার বা বন্ধুদের দল নিয়েও এখানে থাকা যায়।
তবে মাচিয়া ও রিয়োকান এক জিনিস নয়। রিয়োকান হলো জাপানের ঐতিহ্যবাহী সরাইখানা বা অতিথিশালা, আর মাচিয়া মূলত ঐতিহ্যবাহী টাউনহাউস ধরনের বাড়ি। ভ্রমণের আগে আবাসনের ধরন ও সুবিধাগুলো ভালোভাবে দেখে বুকিং করা উচিত।
ডোরেমন-শিনচ্যানের স্মৃতি
মাচিয়ার কাঠের স্থাপত্য ও ঘরের পরিবেশ অনেক দর্শকের মনে জাপানি কার্টুনের শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। কায়জাল ও শচীনের ভিডিওতে এমন মন্তব্যও এসেছে।
একজন লিখেছেন, “শিনচ্যান আর ডোরেমন দেখার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেল।”
অন্য একজনের মন্তব্য, “শৈশবের কার্টুন।”
আরেকজন লিখেছেন, “নোবিতার বাড়ির মতো।”
আরেক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, “দেখতে ডোরেমন আর নোবিতার বাড়ির মতো লাগছে।”
জাপানের প্রচলিত পর্যটন আকর্ষণের পাশাপাশি দেশটির ঐতিহ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের স্বাদ নিতে চাইলে মাচিয়ায় থাকা হতে পারে ভ্রমণের একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণে গেলে ঐতিহ্যবাহী এই আবাসন জাপান সফরের স্মৃতিতে যোগ করতে পারে নতুন মাত্রা।