ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের যুগেও আকর্ষণ হারায়নি বিলাসবহুল রেলভ্রমণ

একসময় রাষ্ট্রপ্রধান, তারকা ও ধনকুবেরদের বিলাসবহুল ভ্রমণের অন্যতম মাধ্যম ছিল ব্যক্তিগত রেলকোচ। পরে গাড়ি ও ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের জনপ্রিয়তায় সেই ঐতিহ্য প্রায় হারিয়ে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এখনও কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন রেলকোচ নিয়মিত ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাত্রী পরিবহন করছে। ফলে পুরোনো দিনের আভিজাত্যের সঙ্গে আধুনিক ভ্রমণের সুবিধার এক অনন্য বন্ধন দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রেল সংস্থা অ্যামট্রাকের একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ব্যক্তিগত রেলকোচের মালিকেরা নির্দিষ্ট মাইলপ্রতি ফি দিয়ে তাদের কোচ নিয়মিত ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। ২০২৫ অর্থবছরে এসব ব্যক্তিগত রেলকোচ অ্যামট্রাকের সঙ্গে প্রায় ৪ লাখ ২৯ হাজার মাইল চলেছে।

ব্যক্তিগত কোচে গম্বুজাকৃতির কাচঘেরা বসার জায়গা (ছবি: দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস)

ব্যক্তিগত রেলভ্রমণের অভিজ্ঞতা যে কতটা বিলাসবহুল হতে পারে, তার উদাহরণ প্যাট্রিক হেনরির তিনটি রেলকোচ। তার একটি কোচে রয়েছে গম্বুজাকৃতির কাচঘেরা বসার জায়গা, আরামদায়ক চেয়ার, খাবারের ঘর, আলাদা বসার কক্ষ এবং উপগ্রহনির্ভর ইন্টারনেট। অন্য কোচগুলোতে রয়েছে শয়নকক্ষ, আর কিছু কক্ষে নিজস্ব শৌচাগার ও গোসলের ব্যবস্থা।

হেনরি নিজের ভ্রমণের পাশাপাশি কোচগুলো ভাড়াও দেন। একটি গম্বুজ কোচ ও একটি শয়নকক্ষের কোচ মিলিয়ে প্রতিদিনের ভাড়া প্রায় ১৬ হাজার ডলার। এর মধ্যে খাবার, পানীয় ও অ্যামট্রাকের নির্ধারিত ফি অন্তর্ভুক্ত।

রয়েছে আলাদা বসার কক্ষ (ছবি: দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস)

এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ অবশ্য ট্রেনের উঁচু কক্ষ থেকে শিল্পাঞ্চল, কৃষিজমি, ছোট শহর ও বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা। অনেক যাত্রীর কাছে গন্তব্যের চেয়ে ধীরগতির এই যাত্রাপথই হয়ে ওঠে ভ্রমণের বড় আকর্ষণ।

ব্যক্তিগত কোচে খাবারের ঘরও রয়েছে (ছবি: দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস)

ব্যক্তিগত রেলভ্রমণের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে নতুন উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে চালু হওয়া হ্যালোওয়ে নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যক্তিগত রেলকোচ ভাড়া দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। নিউইয়র্ক ও ভারমন্টের শরৎকালীন আট দিনের একটি ব্যক্তিগত রেলভ্রমণে এক যাত্রীকে ৫ হাজার ৫০০ ডলার খরচ করতে হয়েছে।

বিলাসিতা, নিরিবিলি পরিবেশ আর জানালার বাইরে বদলে যেতে থাকা দৃশ্য দেখার কারণে ব্যক্তিগত রেলভ্রমণ যুক্তরাষ্ট্রে এখনও সীমিত পরিসরে হলেও টিকে আছে। আধুনিক উড়োজাহাজের দ্রুতগতির ভ্রমণের বিপরীতে এটি যেন ধীরে, আরামে এবং পথটাকেই উপভোগ করে বেড়ানোর এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।