ভিয়েতনামের যে গ্রামজুড়ে রঙিন ধূপকাঠির মেলা

ভিয়েতনাম মানেই ব্যস্ত শহর, সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক দৃশ্য আর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। তবে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে দেশটির এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে মিলতে পারে একেবারেই অন্যরকম অভিজ্ঞতা। তেমনই একটি স্থান হ্যানয়ের কাছাকাছি অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ধূপকাঠি তৈরির গ্রাম কুয়াং ফু কাউ। রোদে শুকাতে দেওয়া শত শত রঙিন ধূপকাঠির বর্ণিল সাজই এই গ্রামের প্রধান আকর্ষণ।

উত্তর ভিয়েতনামের এই গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে ধূপকাঠি তৈরির ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় কারিগরেরা হাতে তৈরি করে আসছেন ধূপকাঠি। বিশেষ করে ভিয়েতনামের চান্দ্র নববর্ষ ‘টেট’-এর সময় ধূপের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই কারুশিল্পের গুরুত্বও আরও বাড়ে। দেশটির বিভিন্ন উৎসব ও সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানে ধূপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সময়ের সঙ্গে কুয়াং ফু কাউয়ের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবেও। গ্রামের একটি মন্দির প্রাঙ্গণে রোদে শুকানোর জন্য শত শত ধূপের বান্ডিল বিশেষভাবে সাজিয়ে রাখা হয়। লাল, গোলাপি, হলুদ, নীল ও সবুজসহ নানা রঙের ধূপকাঠি সারি সারি করে সাজানো হলে পুরো জায়গাটিই যেন বিশাল কোনও রঙিন চিত্রকর্মের রূপ নেয়। এ কারণে ছবি তোলার জন্যও জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়।

বদলেছে ধূপকাঠির রং

লাল ও গোলাপি রং কুয়াং ফু কাউয়ের ধূপকাঠি তৈরির ঐতিহ্যের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তবে বর্তমানে কারিগরেরা হলুদ, নীল ও সবুজসহ নানা রঙের ধূপকাঠিও তৈরি করছেন। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি পর্যটকদের পছন্দের কথা মাথায় রেখেই ধূপকাঠির রঙে এসেছে এই বৈচিত্র্য।

প্রবেশে কত খরচ

কুয়াং ফু কাউ গ্রামে প্রবেশের জন্য সাধারণত কোনও অর্থ দিতে হয় না। তবে কিছু ব্যক্তিগত বাড়ি ও ধূপকাঠি তৈরির কারখানায় উঠান বা উৎপাদনস্থলে প্রবেশের জন্য ফি নেওয়া হতে পারে। এই ফি সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ভিয়েতনামি ডং। কোনও কোনও জায়গায় এর সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ বা অন্যান্য সেবাও যুক্ত থাকতে পারে।

কখন গেলে ভালো

কুয়াং ফু কাউ ঘুরে দেখার জন্য টেট বা ভিয়েতনামের চান্দ্র নববর্ষের আগের কয়েক মাসকে উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় ধূপকাঠি তৈরির ব্যস্ততাও চোখে পড়ে বেশি।

ছবি তোলার জন্য সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সময় বেশ ভালো। সকালের নরম আলোয় রঙিন ধূপকাঠির সৌন্দর্য যেমন ভালোভাবে ফুটে ওঠে, তেমনি এ সময় পরিবেশও তুলনামূলক শান্ত থাকে। আবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে সোনালি রোদ ধূপকাঠির উজ্জ্বল রংকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

রঙের গ্রাম, ঐতিহ্যের গল্প

প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে ভিয়েতনামকে একটু ভিন্নভাবে দেখতে চাইলে কুয়াং ফু কাউ হতে পারে আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। এখানে শুধু রঙিন ধূপকাঠির অসাধারণ দৃশ্যই নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা একটি ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রোদে সারি সারি সাজানো লাল, গোলাপি, হলুদ কিংবা সবুজ ধূপকাঠির দৃশ্য; এর সঙ্গে মিশে আছে ভিয়েতনামের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গল্পও।