ভারত ও ফিলিপাইনের আকাশপথে নতুন সংযোগ চালুর পরিকল্পনা করেছে ফিলিপাইন এয়ারলাইনস। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ম্যানিলা থেকে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে সরাসরি উড়োজাহাজ চলাচল শুরু করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। তবে নতুন এই সেবা চালুর জন্য ভারতের সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ম্যানিলা থেকে দিল্লি রুটে সপ্তাহে তিনটি এবং ম্যানিলা থেকে মুম্বাই রুটে সপ্তাহে চারটি উড়োজাহাজ চলবে। এর ফলে ফিলিপাইন থেকে ভারতে সরাসরি যাতায়াতের পাশাপাশি ম্যানিলাকে কেন্দ্র করে এশিয়া, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগও বাড়বে।
ফিলিপাইন এয়ারলাইনসের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নাটাল বলেছেন, দিল্লি ও মুম্বাইয়ে সেবা চালুর মাধ্যমে এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির সঙ্গে তাদের আকাশপথের যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে। নতুন এই রুট পর্যটন, ব্যবসা ও পণ্য পরিবহনে দুই দেশের যোগাযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
দিল্লি-ম্যানিলা ফ্লাইট সূচি
ম্যানিলা থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটটি প্রতি সোমবার, বুধবার ও শুক্রবার চলবে। ফ্লাইটটি ম্যানিলা থেকে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন ভোর ৩টায় দিল্লিতে পৌঁছাবে।
দিল্লি থেকে ম্যানিলাগামী ফিরতি ফ্লাইট চলবে প্রতি মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার ও শনিবার। এটি দিল্লি থেকে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ম্যানিলায় বিকাল ৫টায় পৌঁছাবে।
মুম্বাই-ম্যানিলা ফ্লাইট সূচি
ম্যানিলা থেকে মুম্বাইগামী ফ্লাইট চলবে প্রতি মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার, শনিবার ও রবিবার। ফ্লাইটটি রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ম্যানিলা ছাড়বে এবং পরদিন ভোর ৩টা ৫ মিনিটে মুম্বাইয়ে পৌঁছাবে।
মুম্বাই থেকে ম্যানিলাগামী ফিরতি ফ্লাইট চলবে প্রতি সোমবার, বুধবার, শুক্রবার ও রবিবার। এটি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে মুম্বাই থেকে ছেড়ে বিকাল ৫টায় ম্যানিলায় পৌঁছাবে।
বাংলাদেশিদের জন্য কতটা কাজে আসতে পারে
নতুন এই রুট বাংলাদেশের যাত্রীদের জন্যও পরোক্ষভাবে কাজে লাগতে পারে। ঢাকা থেকে দিল্লি বা মুম্বাই হয়ে ম্যানিলায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরা নতুন এই সরাসরি ভারত-ম্যানিলা সংযোগ বিবেচনা করতে পারবেন। বিশেষ করে ফিলিপাইনগামী পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী যাত্রীদের জন্য এটি একটি অতিরিক্ত ভ্রমণপথ তৈরি করতে পারে।
তবে বাংলাদেশি যাত্রীদের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দিল্লি বা মুম্বাইয়ে যাত্রাবিরতি করে ম্যানিলায় যাওয়ার সময় ভারতের প্রবেশ বা যাত্রাবিরতি-সংক্রান্ত নিয়ম আগে যাচাই করতে হবে। ভারতের সরকারি ভিসা তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশের জন্য বৈধ ভিসা প্রয়োজন এবং যাত্রার ধরন অনুযায়ী পর্যটন বা যাত্রাবিরতি ভিসার প্রয়োজন হতে পারে।
অর্থাৎ ঢাকা থেকে আলাদা টিকিটে ভারত হয়ে ম্যানিলা যাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু উড়োজাহাজের সময়সূচি মিললেই হবে না, ভারতীয় বিমানবন্দরে যাত্রীকে প্রবেশ করতে হবে কি না, লাগেজ সংগ্রহ করে আবার জমা দিতে হবে কি না এবং যাত্রাবিরতির জন্য কী ধরনের অনুমতি প্রয়োজন- এসব বিষয়ও টিকিট কাটার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
ম্যানিলা হয়ে আরও অনেক দেশে যাওয়ার সুযোগ
নতুন রুটের অন্যতম সুবিধা হলো ম্যানিলা হয়ে ফিলিপাইনের বিভিন্ন শহরে যাওয়ার সুযোগ। দিল্লি ও মুম্বাই থেকে ম্যানিলা হয়ে সেবু, বাকোলোদ, কাগায়ান দে ওরো, ইলোইলো ও দাভাওয়ের মতো জায়গায় যাওয়া যাবে।
এ ছাড়া ম্যানিলা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, ভ্যাঙ্কুভার, হনুলুলু, সিডনি, ব্রিসবেন, পার্থ, মেলবোর্ন, টোকিও ও হংকংয়ের মতো আন্তর্জাতিক গন্তব্যেও সংযোগ পাওয়া যাবে।
যাত্রীসেবায় থাকবে ১৬৮ আসনের উড়োজাহাজ
দুই রুটেই ১৬৮ আসনের এয়ারবাস এ৩২১ নিও উড়োজাহাজ ব্যবহার করবে ফিলিপাইন এয়ারলাইনস। এতে ব্যবসায়িক শ্রেণির ১২টি শোয়া যায় এমন আসন এবং সাধারণ শ্রেণির ১৫৬টি আসন থাকবে।
যাত্রীরা উড়োজাহাজে খাবার, বিনোদন ও পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা পাবেন। পাশাপাশি নতুন রুটের মাধ্যমে ভারত ও ফিলিপাইনের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতাও বাড়বে।
টিকিট কাটার আগে যা জানা জরুরি
নতুন দিল্লি ও মুম্বাই রুট চালুর পরিকল্পনা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের জন্য করা হলেও এটি ভারতের সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। তাই বাংলাদেশি যাত্রীদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের তারিখ চূড়ান্ত করার আগে ফ্লাইট চালুর অনুমোদন, সময়সূচি, ভারত হয়ে যাত্রার ভিসা ও যাত্রাবিরতির নিয়ম এবং পরবর্তী গন্তব্যের প্রবেশসংক্রান্ত শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
ফিলিপাইন এয়ারলাইনসের নতুন এই সংযোগ শেষ পর্যন্ত চালু হলে বাংলাদেশের যাত্রীদের জন্যও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যাওয়ার আরও একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি হবে। তবে কোন পথটি সময় ও খরচের দিক থেকে সুবিধাজনক হবে, তা নির্ভর করবে ঢাকা থেকে ভারতের ফ্লাইট, টিকিটের মূল্য, যাত্রাবিরতির নিয়ম এবং সংযোগের সময়ের ওপর।
সূত্র: এনডিটিভি