বিশ্বের সেরা ৫০ হোটেলের তালিকায় মুম্বাইয়ের তাজ মহল প্যালেস

মুম্বাইয়ের ঐতিহ্যবাহী তাজ মহল প্যালেস হোটেল জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের সেরা ৫০ হোটেলের তালিকায়। দ্য ওয়ার্ল্ডস ৫০ বেস্ট হোটেলস ২০২৬ তালিকায় এবার হোটেলটির অবস্থান ৩০তম। গত বছর তালিকায় ৩৮তম স্থানে ছিল এটি। ১৫ সেপ্টেম্বর প্যারিসে প্রকাশ করা হয় এবারের তালিকা। শীর্ষে রয়েছে রোজউড হংকং। এরপর রয়েছে ক্যাপেলা ব্যাংকক ও চাও ফ্রায়া রিভারের ফোর সিজনস ব্যাংকক।

২০২৬ সালের বৈশ্বিক সেরা ৫০ হোটেলের তালিকায় ভারতের একমাত্র হোটেল হিসেবে জায়গা পেয়েছে তাজ মহল প্যালেস। কোলাবায়, গেটওয়ে অব ইন্ডিয়ার ঠিক বিপরীতে অবস্থিত এই হোটেলটি এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মুম্বাইয়ের অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। আরব সাগরমুখী অবস্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যের কারণে পর্যটকদের কাছেও এটি দীর্ঘদিনের আকর্ষণ।

দ্য ওয়ার্ল্ডস ৫০ বেস্ট হোটেলস ২০২৬ তালিকায় এবার হোটেলটির অবস্থান ৩০তম (ছবি: বাংলা ট্রিবিউন কোলাজ)

তবে এই ঐতিহ্যবাহী হোটেলে থাকার অভিজ্ঞতা কেমন? কতটি কক্ষ ও স্যুট রয়েছে? আর এক রাত থাকার জন্যই বা কত খরচ হতে পারে?

১৯০৩ সালে যাত্রা শুরু

তাজ মহল প্যালেসের ইতিহাস ফিরে যায় ১৯০৩ সালের ডিসেম্বরে। সে সময়ই মুম্বাইয়ে হোটেলটির দরজা খুলে দেওয়া হয়। তাজ হোটেলসের তথ্য অনুযায়ী, জামশেদজি নুসেরওয়ানজি টাটা এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে এটিই তাজ গ্রুপের প্রথম হোটেল হিসাবে পরিচিতি পায়।

ঐতিহাসিক স্থাপত্যের কারণে পর্যটকদের কাছেও এটি দীর্ঘদিনের আকর্ষণ (ছবি: পিক্সেল)

এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এই হোটেলে আতিথ্য পেয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাজপরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তারকা ও অন্যান্য খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। হোটেলের অবস্থানও এর পরিচিতির অন্যতম কারণ। এখান থেকে দেখা যায় গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া ও আরব সাগর। অন্দরসজ্জায় ঐতিহ্যবাহী নকশার সঙ্গে রয়েছে আধুনিক হোটেল সুবিধার সমন্বয়।

তাজ কর্তৃপক্ষ বর্তমানে তাজ মহল প্যালেসকে তাদের বৈশ্বিক ফ্ল্যাগশিপ হোটেল হিসাবে উল্লেখ করে।

আরব সাগরের তীরে তাজমহল প্যালেস হোটেল (ছবি: পিক্সেল)

২৪৩ কক্ষ ও ৪২ স্যুট

হোটেলটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তাজ মহল প্যালেসে রয়েছে ২৪৩টি কক্ষ ও ৪২টি স্যুট। অতিথিদের চাহিদা ও থাকার ধরন অনুযায়ী রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণির কক্ষ। শহরমুখী কক্ষের পাশাপাশি রয়েছে আরব সাগরের দৃশ্য উপভোগের সুযোগ-সম্বলিত কক্ষও। তাজ ক্লাবের কক্ষগুলোর সঙ্গে রয়েছে তাজ ক্লাব লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা এবং অতিরিক্ত কিছু পরিষেবা।

বিলাসবহুল থাকার অভিজ্ঞতার জন্য রয়েছে গ্র্যান্ডে লাক্সারি স্যুট, সিগনেচার স্যুট ও টাটা স্যুট। ১২১ বর্গমিটার আয়তনের গ্র্যান্ডে লাক্সারি স্যুটে রয়েছে আরব সাগরমুখী ব্যক্তিগত বারান্দা। সিগনেচার স্যুটগুলোর আয়তন ১২১ থেকে ১৩৯ বর্গমিটারের মধ্যে। এসব স্যুটে রয়েছে আসল শিল্পকর্ম ও বাছাই করা নানা শিল্পসামগ্রী।

রাতের ঝলমলে আলোয় উজ্জল তাজমহল প্যালেস (ছবি: পিক্সেল)

সবচেয়ে বড় টাটা স্যুটটি বিস্তৃত ৪৬৫ বর্গমিটারজুড়ে। এতে রয়েছে দুটি শোবার ঘর, আনুষ্ঠানিক ডাইনিং রুম, অফিস, ব্যক্তিগত জিম, সনা-সহ স্পা, বাটলার্স প্যান্ট্রি এবং একটি মিটিং রুম।

খাবার ও বিনোদনের আয়োজন

তাজ মহল প্যালেসে থাকার সময় খাবার বা অবসর কাটানোর জন্য হোটেলের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। হোটেলটিতে রয়েছে একাধিক রেস্তোরাঁ ও বার। এর মধ্যে রয়েছে লোয়া, ওয়াসাবি বাই মরিমোটো, গোল্ডেন ড্রাগন, সুক, শামিয়ানা, হারবার বার ও সি লাউঞ্জ।

এ ছাড়া অতিথিদের জন্য রয়েছে জে ওয়েলনেস সার্কেল, খোলা আকাশের নিচে সুইমিং পুল, তাজ সেলুন এবং ২৪ ঘণ্টার ফিটনেস সেন্টার। নির্বাচিত কিছু কক্ষে থাকা অতিথিরা তাজ ক্লাবের বিশেষ সুবিধাও পান।

অন্যান্য পরিষেবার মধ্যে রয়েছে কনসিয়ার্জ সহায়তা, ব্যক্তিগতকৃত বাটলার সার্ভিস এবং ২৪ ঘণ্টার ইন-রুম ডাইনিং।

এক রাত থাকার খরচ কত?

তাজ মহল প্যালেসে এক রাত থাকার নির্দিষ্ট কোনও স্থির মূল্য নেই। তাজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেখানো রেট ভ্রমণের তারিখ, বেছে নেওয়া কক্ষ বা স্যুট এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের বুকিং অফারের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

হোটেলটিতে রয়েছে কেবল কক্ষের ভাড়া থেকে শুরু করে সকালের নাশতাসহ বিভিন্ন রেট ও প্ল্যান। তাই থাকার পরিকল্পনা করলে নির্দিষ্ট ভ্রমণের তারিখ অনুযায়ী হোটেলের ওয়েবসাইটে বর্তমান রেট যাচাই করতে হবে।

১৯০৩ সালে যাত্রা শুরু করা তাজ মহল প্যালেস এখন বিশ্বের সেরা ৫০ হোটেলের তালিকায় ৩০তম। ফলে এখানে থাকার আকর্ষণ শুধু বিলাসবহুল কক্ষ বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মুম্বাইয়ের ঐতিহ্য, স্থাপত্য এবং এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের ইতিহাস।