পূজার ছুটিতে ঘুরে আসুন শাড়ি, মন্দির আর ঐতিহ্যের শহর কাঞ্চীপুরমে

দুর্গাপূজা মানেই নতুন পোশাকের আনন্দ। আর শাড়িপ্রেমীদের কাছে সেই তালিকায় কাঞ্জিভরমের আলাদা জায়গা রয়েছে। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর প্রাচীন শহর কাঞ্চীপুরমকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে এই বিখ্যাত রেশমশাড়ির ঐতিহ্য। তাই পূজার কেনাকাটার পাশাপাশি ভিন্ন স্বাদের ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে কাঞ্চীপুরম হতে পারে আকর্ষণীয় একটি স্থান।

প্রাচীন শহর কাঞ্চীপুরের প্রাচীন স্থাপত্য (ছবি: পিক্সেল)

শুধু শাড়ির জন্য নয়, প্রাচীন মন্দির ও দ্রাবিড় স্থাপত্যের কারণেও শহরটির রয়েছে বিশেষ পরিচিতি। কয়েক শতাব্দী ধরে এখানকার তাঁতিদের হাতে তৈরি হচ্ছে সূক্ষ্ম বুননের রেশমশাড়ি। শহরে গেলে তাই শাড়ি কেনার পাশাপাশি সরাসরি তাঁতিদের কাজ দেখার সুযোগও মিলতে পারে।

কাঞ্চীপুরম ভ্রমণে প্রথমেই রাখা যেতে পারে একাম্বরেশ্বর মন্দির। বিশাল প্রবেশদ্বার, দীর্ঘ স্তম্ভশোভিত মণ্ডপ এবং প্রাচীন আমগাছ মন্দিরটির অন্যতম আকর্ষণ। এর পাশাপাশি অষ্টম শতকে নির্মিত কৈলাসনাথ মন্দিরও দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আগ্রহের। বেলেপাথরের সূক্ষ্ম ভাস্কর্য ও প্রাচীন স্থাপত্য এই মন্দিরের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

কাঞ্চীপুরমের প্রাচীন মন্দির (ছবি: পিক্সেল)

শক্তি আরাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান কামাক্ষী অম্মান মন্দির এবং বিষ্ণুর উদ্দেশে নির্মিত বরদরাজ পেরুমল মন্দিরও ঘুরে দেখা যায়। বিভিন্ন মন্দিরের দর্শনের সময় আলাদা হতে পারে। অনেক মন্দির দুপুরে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তাই ভ্রমণের সময়সূচি আগে জেনে নেওয়া সুবিধাজনক।

তবে কাঞ্চীপুরমে গিয়ে কাঞ্জিভরম শাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে একটু সময় হাতে রাখা ভালো। শহরের সমবায় প্রতিষ্ঠান ও পুরনো নির্ভরযোগ্য বিপণিগুলোতে রেশমশাড়ি পাওয়া যায়। চাইলে পিল্লাইয়ারপালায়াম এলাকার তাঁতিদের বাড়িতেও ঘুরে দেখতে পারেন। সেখানে শাড়ি তৈরির কাজ কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি সরাসরি কেনার সুযোগও মিলতে পারে।

কাঞ্জিভরম শাড়ি ও তাঁত কারখানা (ছবি: বাংলা ট্রিবিউন কোলাজ)

শাড়ি কেনার সময় রেশমের মান, বুনন ও সরকারি স্বীকৃতির চিহ্ন যাচাই করে নেওয়া জরুরি। এতে আসল রেশমশাড়ি চেনা এবং কেনাকাটায় সতর্ক থাকা সহজ হয়।

ভ্রমণের ফাঁকে কলাপাতায় পরিবেশিত দক্ষিণ ভারতীয় নিরামিষ খাবার এবং স্থানীয় কাঞ্চীপুরম ইডলি চেখে দেখতে পারেন। খাবারের স্বাদও ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় যোগ করবে আলাদা মাত্রা।

পিল্লাইয়ারপালায়াম এলাকার তাঁত কারখানায় কাঞ্চিপুরাম শাড়ি তৈরি (ছবি: পিক্সেল)

চেন্নাই থেকে কাঞ্চীপুরমে সড়ক ও রেলপথে যাওয়া যায়। সময় হাতে থাকলে চেন্নাইয়ের সঙ্গে মহাবলীপুরম ও কাঞ্চীপুরম মিলিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনাও করা যায়। এতে প্রাচীন মন্দির, সমুদ্রতীর এবং দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প সবকিছুর স্বাদ এক সফরেই পাওয়া সম্ভব।

পুজোর আগে নতুন শাড়ি কেনার পাশাপাশি যদি ইতিহাস, স্থাপত্য ও স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে চান, তবে কাঞ্চীপুরম হতে পারে এমন একটি গন্তব্য যেখানে কেনাকাটা আর ভ্রমণ দুই আনন্দই একসঙ্গে মিলবে।