ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে একদিন

শহরের ব্যস্ততা, যানজট আর কংক্রিটের ভিড় থেকে এক দিনের জন্য একটু সবুজের কাছে যেতে চাইলে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান হতে পারে সহজ গন্তব্য। ঢাকার খুব কাছেই গাজীপুরে অবস্থিত এই বিশাল শালবন প্রকৃতিপ্রেমী, পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে দিনের ভ্রমণের জন্য বেশ জনপ্রিয়। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৮ থেকে ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে, রুট অনুযায়ী দূরত্বে কিছুটা পার্থক্য হয়।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ঢুকলেই শহরের চেনা দৃশ্য বদলে যায়। চারপাশে শালগাছ, সবুজের বিস্তার, পাখির ডাক আর নিরিবিলি পরিবেশে এখানে সময় কাটানোর আলাদা আনন্দ রয়েছে। হাঁটাহাঁটি, ছবি তোলা, পরিবার নিয়ে পিকনিক কিংবা প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি বেশ উপযোগী।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান (ছবি: সংগৃহীত)

কী দেখবেন

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের অন্যতম আকর্ষণ এর শালবন। বনের বিভিন্ন অংশে হাঁটতে হাঁটতে দেখা মেলে নানা ধরনের গাছপালা ও পাখির। উদ্যানের ভেতরে রয়েছে পিকনিক স্পট, ওয়াচ টাওয়ার, কৃত্রিম লেক এবং নৌকাভ্রমণের সুযোগ। শিশুদের জন্য রয়েছে বিনোদনের ব্যবস্থাও।

বনের পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে খুব বেশি তাড়াহুড়ো না করে কয়েক ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে যাওয়া ভালো। সকালে গেলে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে ঘোরাঘুরি করা যায়। শীতের সময় আবহাওয়া আরামদায়ক থাকায় ভ্রমণের আনন্দও বাড়ে। বর্ষায় চারপাশ আরও সবুজ হয়ে ওঠে, যদিও বৃষ্টির পর বনের পথ পিচ্ছিল থাকতে পারে।

বনের বিভিন্ন অংশে হাঁটতে হাঁটতে নানা ধরনের গাছপালা ও পাখির দেখা মেলে (ছবি: সংগৃহীত)

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় সড়কপথ। মহাখালী থেকে গাজীপুর বা ময়মনসিংহগামী বাসে উঠে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি নামা যায়। বিভিন্ন রুটের বাসে সরাসরি উদ্যানের গেটের কাছেও নামার সুযোগ রয়েছে।

মহাখালী থেকে বাসে গেলে জনপ্রতি যাওয়া-আসার খরচ আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা ধরে রাখতে পারেন। বাসভাড়া, নামার জায়গা এবং স্থানীয় রিকশা বা অটোরিকশার ভাড়ার ওপর মোট খরচ কিছুটা কমবেশি হতে পারে। কয়েক বছর আগের বিভিন্ন ভ্রমণতথ্যেও ঢাকা থেকে বাসে যাওয়া-আসায় প্রায় ৩০০ টাকার মতো খরচের হিসাব পাওয়া যায়।

নিজস্ব গাড়িতে গেলে যাতায়াত খরচ অবশ্যই বেশি হবে। তবে কয়েকজন মিলে গেলে গাড়ির খরচ ভাগ করে নেওয়ায় মাথাপিছু ব্যয় কমানো সম্ভব। উদ্যানের ভেতরে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে প্রবেশের জন্য আলাদা ফি প্রযোজ্য হতে পারে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রাইভেট কারের জন্য ৬০ টাকা, মাইক্রোবাসের জন্য ১০০ টাকা এবং বাসের জন্য ২০০ টাকা পর্যন্ত প্রবেশ ফি উল্লেখ করা হয়েছে।

উদ্যানের ভেতরে রয়েছে পিকনিক স্পট, ওয়াচ টাওয়ার ও কৃত্রিম লেক (ছবি: সংগৃহীত)

প্রবেশমূল্য কত

সাম্প্রতিক প্রকাশিত ভ্রমণতথ্য অনুযায়ী ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে জনপ্রতি প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। শিশু পার্ক, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি চিড়িয়াখানা ও পাবলিক টয়লেটের ব্যবহারের বিষয়টিও এই প্রবেশমূল্যের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকারি ফি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে প্রবেশমুখে বর্তমান ফি জেনে নেওয়া ভালো।

অর্থাৎ, ঢাকা থেকে বাসে যাওয়া-আসা ও প্রবেশমূল্য মিলিয়ে একজনের ন্যূনতম আনুমানিক ২৭০ থেকে ৩৭০ টাকা দিয়ে একটি বাজেট ভ্রমণ করা সম্ভব। খাবার, নৌকাভ্রমণ কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ এতে ধরা হয়নি।

কখন যাবেন

বছরের বিভিন্ন সময়েই ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে যাওয়া যায়। তবে শীতের সময় আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক হওয়ায় দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটি বা পিকনিকের জন্য সুবিধা বেশি। বর্ষায় শালবনের সবুজ সৌন্দর্য অন্যরকম রূপ নেয়।

বর্তমান অনলাইন ব্যবসায়িক তালিকায় উদ্যানটির সময় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দেখানো হচ্ছে। তবে সরকারি পরিচালনাসূচি বা বিশেষ দিনের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে, তাই যাওয়ার আগে সময় নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

ঢাকার কাছাকাছি কম খরচে প্রকৃতির মধ্যে একটি দিন কাটাতে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান হতে পারে সহজ ও স্বস্তিদায়ক গন্তব্য। সকালে রওনা দিয়ে দিনের আলোতেই ঘুরে আবার ঢাকায় ফিরে আসা যায়। তাই ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে ছোট্ট এক দিনের ভ্রমণের জন্য জায়গাটি বেশ সুবিধাজনক।