বাংলাদেশিদের জন্য কাছেই পাহাড়-নদীর নিরিবিলি ঠিকানা, ঘুরে আসুন তুরিবাড়ি

ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কয়েক দিনের জন্য দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে চান? সমুদ্রের ভিড় কিংবা পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বদলে যদি পাহাড়, নদী আর অরণ্যের শান্ত পরিবেশ আপনার পছন্দ হয়, তাহলে উত্তরবঙ্গের তুরিবাড়ি হতে পারে ভিন্নধর্মী একটি জায়গা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এই নিরিবিলি জনপদ ডুয়ার্স অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।

তুরিবাড়ির মূল আকর্ষণ প্রাকৃতিক পরিবেশ (ছবি: পিক্সেল)

বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণপ্রেমীরা সাধারণত কলকাতা, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি কিংবা সিকিমের পরিচিত জায়গাগুলোতেই বেশি ঘুরতে যান। তবে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে একটু নিরিবিলি পরিবেশ খুঁজলে তুরিবাড়ির মতো ছোট পাহাড়ি জনপদ ভ্রমণের তালিকায় রাখা যেতে পারে।

তুরিবাড়ির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। একদিকে পাহাড়ের ঢাল, অন্যদিকে নদীর স্বচ্ছ স্রোত। চারপাশে ঘন সবুজ গাছপালা আর অরণ্য। ভোরের নীরবতা ভাঙে পাখির ডাকে। কখনও রঙিন প্রজাপতির দেখা মেলে, আবার ভাগ্য ভালো হলে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতিও চোখে পড়তে পারে।

ছবি তোলার জন্যও জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয় (ছবি: সংগৃহীত)

এখানে গিয়ে প্রতিদিন ব্যস্তভাবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটতে হবে এমন নয়। নদীর পাশে বসে সময় কাটানো, পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা চারপাশের সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করেই একটি দিন কেটে যেতে পারে। যারা ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তাদের জন্যও জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়।

তুরিবাড়িকে ঘিরে আশপাশের কয়েকটি স্থানও ঘুরে দেখা যায়। সর্পিল আকৃতির লুপ সেতু থেকে পাহাড়ি রাস্তা ও চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বাগরাকোটের এই সেতুটি উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সিকিমের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথের অংশ। পর্যটকদের ছবি তোলার জন্যও এখানে সুন্দর জায়গা রয়েছে।

এখানে পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করেই দিন কেটে যেতে পারে (ছবি: সংগৃহীত)

পাহাড় ও প্রকৃতির পাশাপাশি বৌদ্ধ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে চাইলে বোকার শেদ্রা ওবার চিমেইলিং মঠে যাওয়া যেতে পারে। সবুজ চা-বাগানের পথ পেরিয়ে মিশনহিলের দিকে এগোলে পাহাড়ি দৃশ্য আরও মনোরম হয়ে ওঠে। কাছাকাছি শাখমের অরণ্য থেকেও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার দৃশ্য দেখা যায়।

প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে সামসিং ও দলগাঁওয়ের দিকেও ঘুরে আসা যায়। পাহাড়ি পথ, চা-বাগান, বনাঞ্চল ও নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে তুড়িবাড়িতে দুই থেকে তিন দিনের একটি স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ পরিকল্পনা করা সম্ভব।

কোথায় থাকবেন

তুরিবাড়িতে নদীর কাছাকাছি কিছু থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে জায়গাটি এখনও বড় পর্যটনকেন্দ্রের মতো বিস্তৃত নয়। তাই যাওয়ার আগে থাকার জায়গা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো। নিরিবিলি পরিবেশের কারণে এখানে ছোট পরিসরের আবাসনই বেশি উপযোগী।

কীভাবে যাবেন

বাংলাদেশ থেকে তুরিবাড়ি যেতে হলে প্রথমে ভারতে প্রবেশের বৈধ অনুমতি ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি থাকতে হবে। এরপর উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ির দিক থেকে সড়কপথে তুরিবাড়ির দিকে যাওয়া যায়। শিলিগুড়ি থেকে জায়গাটি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে। নিউ মাল থেকেও তুলনামূলক কম দূরত্বে পৌঁছানো যায়।

পরিচিত পাহাড়ি শহরের ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি যেতে চাইলে তুরিবাড়ি হতে পারে শান্ত একটি বিকল্প। পাহাড়ের নীরবতা, নদীর স্রোত আর অরণ্যের সবুজে কয়েকটি দিন কাটিয়ে ব্যস্ত জীবনে ফিরে পাওয়া যেতে পারে নতুন সতেজতা।