জার্মানি ভ্রমণে যারা পরিচিত শহরের পাশাপাশি ইতিহাস ও স্থাপত্যের স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য গর্লিৎস হতে পারে দারুণ এক জায়গা। পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই শহরটি বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্যও ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে পারে। ড্রেসডেন থেকে এক দিনের ভ্রমণেও ঘুরে দেখা যায় গর্লিৎস। তবে শহরের সৌন্দর্য এতটাই আকর্ষণীয় যে হাতে সময় থাকলে আরও কিছুদিন থেকে এর পুরোনো রাস্তাঘাট ও স্থাপত্য উপভোগ করা যেতে পারে।
গর্লিৎসের পুরোনো শহরজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে নানা রঙের দৃষ্টিনন্দন ভবন। পাথর বিছানো সরু রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে, যেন জার্মান স্থাপত্যের পাঁচ শতকের ইতিহাসের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। গথিক স্থাপত্য থেকে রেনেসাঁ এবং পরবর্তী সময়ের শিল্প-নকশা—বিভিন্ন যুগের স্থাপত্যশৈলীর দেখা মেলে শহরটির ভবনগুলোতে।
শহরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্থাপনা সেন্ট পিটার্স চার্চ। এর পাশাপাশি পুরোনো শহরের ভবন ও রাস্তার ঐতিহাসিক পরিবেশও পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এই অনন্য স্থাপত্যের কারণেই গর্লিৎস জার্মানি ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছেও জনপ্রিয়। শহরের পুরোনো ভবন ও রাস্তায় বিভিন্ন চলচ্চিত্রের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।
ঘোরাঘুরির পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের স্বাদও নিতে পারেন শহরের বিভিন্ন পানশালায়। আর প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে বাসে করে চলে যেতে পারেন বেরৎসডর্ফ হ্রদে। বালুময় সৈকত থেকে পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। চাইলে নৌকায় চড়ে হ্রদের মাঝেও যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জার্মানি ভ্রমণে তাই শুধু বার্লিন, মিউনিখ বা ড্রেসডেনের মতো বড় শহর নয়, সময় করে গর্লিৎস ঘুরে দেখলে মিলবে ইতিহাস, স্থাপত্য, চলচ্চিত্রের স্মৃতি ও প্রকৃতির এক ভিন্ন স্বাদ।