পাহাড়, নীল আকাশ, স্বচ্ছ হ্রদ আর বরফঢাকা পর্বতের অপূর্ব সৌন্দর্য দেখার জন্য প্রতি বছর প্রকৃতিপ্রেমীদের মেলা বসে লাদাখে। সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে লাদাখ ঘুরে এসেছেন অভিনেত্রী রুবিনা দিলাইকও। সেখানে কাটানো সময়ের নানা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ভ্রমণপ্রেমীদের নজর কেড়েছেন তিনি।
একটি ভিডিওতে রুবিনা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ লাদাখে ছিলেন। তবে ফিরে আসার সময় সুন্দর কিছু স্মৃতির সঙ্গে নিয়ে এসেছেন বেশি কিছু সুন্দর অভিজ্ঞতাও। লাদাখের খাবার, আতিথেয়তা এবং স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন অভিনেত্রী। তার মতে, সেখানে তার পরিবার নিজেদের নিরাপদ, স্বস্তিতে এবং একেবারে ঘরের মানুষের মতো অনুভব করেন। লাদাখে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তও তারা উপভোগ করেছেন।
বাংলাদেশ থেকে যারা ভারতের কোনও পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য লাদাখ হতে পারে আকর্ষনীয় ভ্রমণস্থান। তবে যাত্রাপথ দীর্ঘ হওয়ায় আগে থেকেই যাতায়াত, প্রয়োজনীয় অনুমতি, আবহাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি।
দিল্লি থেকে লাদাখ যাওয়ার উপায়
দিল্লি থেকে লাদাখ যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বিমান। দিল্লি থেকে সরাসরি বিমানে লেহ পৌঁছানো যায়। চাইলে দিল্লি থেকে শ্রীনগর গিয়ে সেখান থেকেও সড়কপথে লেহ যেতে পারেন।
সড়কপথে লাদাখ যাওয়ার জন্য শ্রীনগর-লেহ সড়কপথ এবং মানালি-লেহ সড়কপথ বেশ পরিচিত। মানালি থেকে লেহ যাওয়ার পথে রোহতাং, কেলং ও তাংলাং লার মতো পাহাড়ি এলাকা পড়বে। এ ছাড়া কেলং, দারচা, জাঁস্কর ও নিমু হয়ে লেহ যাওয়ার পথও রয়েছে।
ট্রেনে সরাসরি লেহ যাওয়া যায় না। দিল্লি থেকে জম্মু বা শ্রীনগর পর্যন্ত ট্রেনে গিয়ে সেখান থেকে বাস বা গাড়িতে লেহ যেতে হয়। বাংলাদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে ভারতে প্রবেশের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমতির বিষয়টি যাত্রার আগে অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
প্যাংগং হ্রদের নীল সৌন্দর্য
লাদাখ ভ্রমণে প্যাংগং হ্রদ হতে পারে অন্যতম আকর্ষণ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ২৭০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই হ্রদটি চারপাশের পাহাড়ি দৃশ্য এবং পানির রং বদলে যাওয়ার বৈশিষ্ট্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। নীল পানির বিশাল হ্রদ আর চারপাশের নির্জন পাহাড় মিলে জায়গাটির সৌন্দর্য একেবারেই আলাদা।
খারদুংলা গিরিপথে হিমালয়ের অপরূপ দৃশ্য
লেহ থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খারদুংলা গিরিপথ। এটি নুব্রা ও শিয়ক উপত্যকার প্রবেশপথ হিসাবে পরিচিত। এখান থেকে হিমালয়ের সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গের পাশাপাশি চারপাশের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি ভূদৃশ্য দেখা যায়।
লাদাখ পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় নাগরিকদের কিছু এলাকায় যেতে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পর্যটন ও আবহাওয়া-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
চাঁদের মতো ভূদৃশ্য দেখতে লামায়ুরু
লাদাখের লামায়ুরু তার অদ্ভুত ও রুক্ষ ভূপ্রকৃতির জন্য পরিচিত। অনেকটা চাঁদের পৃষ্ঠের মতো দেখতে এই পাহাড়ি এলাকা লেহ থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দূরে। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ একাদশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক লামায়ুরু মঠ।
প্রকৃতির পাশাপাশি হিমালয়ের স্বচ্ছ জলরাশি দেখতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন নুব্রা উপত্যকা ও তসোমোরিরি হ্রদ থেকে।
আলচি ও হেমিস মঠে ইতিহাসের ছোঁয়া
লাদাখের সংস্কৃতি ও ইতিহাস জানতে চাইলে আলচি ও হেমিস মঠ ঘুরে দেখা যেতে পারে। প্রাচীন এসব মঠ কাঠের কারুকাজ, থাংকা চিত্রকর্ম ও বিভিন্ন ভাস্কর্যের জন্য পরিচিত। মঠগুলোর স্থাপত্য ও শিল্পকর্মে ফুটে উঠেছে লাদাখের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
লাদাখ ভ্রমণে যে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
লাদাখ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচ্চতায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে গিয়ে অনেকের উচ্চতাজনিত অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তাই হঠাৎ বেশি উচ্চতায় উঠে না গিয়ে শরীরকে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিন। সেখানে পৌঁছে অন্তত দুই দিন বিশ্রাম নিন কিংবা ধীরে ধীরে উচ্চতা বাড়ান।
বাংলাদেশ থেকে লাদাখে ভ্রমণ করতে চাইলে যাতায়াতের সময়, আবহাওয়া, প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং শরীরের সঙ্গে উচ্চতার মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকে পরিকল্পনায় রাখুন। তাহলে আপনার লাদাখ ভ্রমণ হবে স্বস্তিদায়ক।